জেলা প্রতিনিধি
১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লোকালয়ে চলে আসা একটি লজ্জাবতী বানরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বানরটিকে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তির বলাই রবিদাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি গাছ থেকে অন্য গাছে যাওয়ার সময় বানরটি মাটিতে নেমে আসে। এটি দেখতে পেয়ে কয়েকজন শিশু চিৎকার শুরু করে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল রবিদাস বানরটিকে দেখতে পেয়ে বাঁশের ঝাঁকি দিয়ে নিরাপদে আটকে রাখেন। এরপর তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে সেটি শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা জানান, পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল, হাওর ও বিস্তীর্ণ চা-বাগানে ঘেরা শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির বিচরণ রয়েছে। পাশেই রয়েছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ফলে খাবার ও নিরাপদ আবাসস্থলের সন্ধানে অনেক সময় বনাঞ্চলের প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে।
তাদের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই অজগর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসার খবর পাওয়া যায়। খবর পেলে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে উপযুক্ত পরিবেশে সেগুলো বনে অবমুক্ত করা হয়।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, খাদ্যের অভাব ও আবাসস্থলের সংকটের কারণে বন্য প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে। এটি প্রাণীগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ। উদ্ধার করা লজ্জাবতী বানরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। বন বিভাগ প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর উপযুক্ত পরিবেশে বানরটিকে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করবে।
তিনি আরও বলেন, লজ্জাবতী বানর দেশের অতি বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এটি নিশাচর প্রাণী এবং সাধারণত উঁচু গাছে বাস করে। একা বা জোড়ায় চলাফেরা করা প্রাণীটি গাছের ডালে ধীরগতিতে চলাচল করে। ইংরেজিতে এটি ‘Bengal slow loris’ নামে পরিচিত। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস