জেলা প্রতিনিধি
১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
নড়াইলের লোহাগড়ায় তুলি বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী রবিন মোল্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের বেলটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত রবিন মোল্যা (২৫) ওই গ্রামের সাকায়েত মোল্যার ছেলে। তুলি বেগম একই ইউনিয়নের মোচড়া গ্রামের ইলিয়াস শেখের মেয়ে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে রবিন মোল্যার সঙ্গে তুলির বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে চাপ দিতেন রবিন—এমন অভিযোগ পরিবারের। একপর্যায়ে তুলির বাবা ইলিয়াস শেখ জামাইকে ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপরও রবিন আবার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়।
শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর পরদিন ভোরে পুলিশ গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তুলির মরদেহ উদ্ধার করে।
তুলির বাবা ইলিয়াস শেখ অভিযোগ করেন, তার মেয়ের গলা, কান, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যৌতুকের টাকার জন্য রবিন ও তার পরিবারের সদস্যরা তুলিকে হত্যা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রবিন মোল্যার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/এসএস