Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

‘গ্যাসের শহরেই’ গ্যাস নেই, মাটির চুলাই ভরসা

জেলা প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

গ্যাসের শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেই এখন গ্যাসের জন্য হাহাকার। গত চার দিন জেলায় প্রকট হয়ে উঠেছে গ্যাস সংকট। পাইপলাইনে চাহিদার তিন ভাগের এক ভাগও গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা। বন্ধ হয়ে গেছে জেলার সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন। বাধ্য হয়ে অনেকেই রান্নার জন্য মাটির চুলা ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করছেন।

বুধবার থেকে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও গ্যাসের সরবরাহ কমে আসে। শনিবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর ছাড়াও সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায় তাদের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় বৈধ গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার। এর মধ্যে ১৭টি শিল্পকারখানা, পাঁচটি সিএনজি স্টেশন এবং ৪০০ থেকে ৫০০ হোটেল-রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বাকি গ্রাহকরা আবাসিক।

B_baria-2এসব সংযোগে প্রতিদিন প্রায় ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে তিন মিলিয়ন ঘনফুটেরও কম। ফলে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবহন খাতেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

শহরের কাজীপাড়া এলাকার গৃহিণী হোসনে আরা আক্তার জোনাকি বলেন, ‘বুধবার সকাল ১০টায় গ্যাস চলে যায়। বিকালে গ্যাস পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সারাদিন গ্যাস ছিল না, রাত ১০টায় আসে। আর শুক্রবার সকাল থেকে গ্যাস নেই। রাতে আবার দুই ঘণ্টার জন্য আসে। আজ শনিবার সকাল থেকে গ্যাস নাই।’

সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে দুঃখ প্রকাশ করে জরুরি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাসের স্বল্পচাপ ও স্বল্পতা বিরাজ করছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক বলেন, ‘বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলতে পারছি না। এ সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও আমাদের কিছু জানাতে পারছে না। তবে কিছুদিন সময় লাগবে- এটা বোঝা যাচ্ছে।’

B_baria-3অন্য সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈধ গ্রাহকের দ্বিগুণ অবৈধ গ্রাহক রয়েছে। তাছাড়া বৈধ সংযোগগুলো পুরনো হওয়ায় লিকেজেও অপচয় হচ্ছে অনেক গ্যাস।

সব সিএনজি স্টেশন বন্ধ

গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন। বুধবার থেকে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরিভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এসব স্টেশনে। মূলত গ্যাস সরবরাহ বন্ধের আগে জেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করতো বাখরাবাদ। যদিও চাহিদা রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে সংকটের কারণে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ছিল কম। সাধারণত ১৫ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও ৩-৪ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হতো।

সর্বশেষ গত বুধবার থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধের কারণে ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

B._baria-2গ্যাসের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার চলাচল কমে গেছে। এলপিজি সিলিন্ডার দিয়ে স্বল্প সংখ্যক অটোরিকশা চললেও ভাড়া নিচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় দেশের বৃহৎ গ্যাস ক্ষেত্র তিতাসের ২৪টি কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়, যা জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ হচ্ছে। এ ছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) অধীন কুমিল্লার বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, মেঘনা, কামতা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে।

প্রতিনিধি/এমআর