Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বাগেরহাটে নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

জেলা প্রতিনিধি

১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাঈম খানের বিরুদ্ধে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করেছেন নাঈম খান ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, সামাজিক ও পেশাগতভাবে নাঈমের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তাদের।

নাঈম খান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাঁও এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান দুলাল খানের ছেলে। ওই তরুণী কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নাঈমের পরিবারের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুদিন কথা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক বা সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি।

পরিবারের ভাষ্য, গত ২৯ জুলাই বিকেল চারটার দিকে ওই তরুণী ভাড়ায় মোটরসাইকেলে করে নাঈমের বাড়ির সামনে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন সেখানে উপস্থিত হন। তবে সে সময় নাঈম বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির কারণে তিনি বরিশালে অবস্থান করছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

নাঈমের বাবা খান মনিরুজ্জামান দুলাল বলেন, ‘২৯ জুলাই আমি পাশের হাটে বাজার করতে যাওয়ার সময় পথে একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা হয়। সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমি নাঈম খানের বাবা কি না। পরিচয় দেওয়ার পর সে জানায়, নাঈম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখানে আসতে বলেছেন। এ সময় আমি ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বললে সে জানায়, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কয়েক দিন ফোনে কথা হয়েছিল মাত্র।’

a38923f1-2ffb-4a1f-b370-688c0bc9e356

তিনি বলেন, সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয়দের পরামর্শে ওই তরুণীকে নাঈমের বন্ধু হৃদয়ের বাড়িতে রাখা হয়। পরে তিনি পঞ্চকরন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম তালুকদারের বাড়িতে প্রায় এক সপ্তাহ অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন নাঈমের বাবা।

নাঈমের বন্ধু হৃদয় বলেন, ‘মেয়েটি আমার বন্ধু নাঈমকে বিয়ের দাবি নিয়ে এসেছিল। আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে মেয়েটি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা আমাকে বলেন, তোমার যেহেতু স্ত্রী রয়েছে, মেয়েটিকে নিরাপদে তোমার বাড়িতে রাখো। সে আমার বাড়িতে এক রাত ছিল।’

এলাকাবাসী খান আবদুল বাহার, খান কবির হোসেন ও আয়েশা সিদ্দিকা জেবুসহ কয়েকজনের দাবি, ২৯ জুলাই ওই তরুণী নাঈমের বাড়ির সামনে অবস্থান করলেও সেখানে নাঈমকে দেখা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক শাহাদাত হোসেন বলেন, ২৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে একটি মেয়েকে মোরেলগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেলে করে পাঁচগাঁও বাজারে নিয়ে যান তিনি। সে সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ভাড়ার টাকা নিয়ে তিনি সেখান থেকে ফিরে আসেন।

এদিকে নাঈম খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, অপহরণ, আটকে রাখা কিংবা অচেতন করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফেসবুকে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় থাকলেও তিনি স্বেচ্ছায় তার বাড়িতে এসেছিলেন বলে দাবি করেন নাঈম।

নাঈমের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনায় কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হোক। তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রতিনিধি/এসএস