জেলা প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ব্রিজের নিচে তিনটি বস্তাভর্তি জবাই করা ঘোড়ার চামড়া ও মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করে আসছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর লক্ষিদিয়া ব্রিজের নিচে তিন বস্তা জবাই করা ঘোড়ার চামড়া, পা ও মাথা পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্রিজের নিচে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঘোড়া জবাই করে তার মাংস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা অভিযোগ না পাওয়ায় এই চক্রটি আড়ালে ছিল বলে তাদের ধারণা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নান্দাইলের কানুরামপুর, চৌরাস্তা বাসস্ট্যান্ড, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ এবং মধুপুর বাজারের বেশ কিছু বড় বড় মাংসের দোকানে এই ঘোড়ার মাংস সরবরাহ করা হতো। কয়েকজন অসাধু কসাই ও ব্যবসায়ী এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থেকে সাধারণ ক্রেতাদের প্রতিনিয়ত প্রতারিত করে আসছিল।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যে-কোনো পশু জবাইয়ের আগে সরকারি ভেটেরিনারি সার্জন বা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
পশুটি সুস্থ কি না বা তার মাংস মানবদেহের জন্য নিরাপদ কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ অঞ্চলের মাংসের বাজারগুলোতে প্রাণিসম্পদ বিভাগসহ বাজার মনিটরিং কমিটির কোনো ধরনের তদারকি নেই। এই সুযোগে অসাধু চক্রটি কেবল ঘোড়ার মাংসই নয়, বরং বিভিন্ন রোগাক্রান্ত ও নিষিদ্ধ পশুর মাংসও অনায়াসে বাজারে বিক্রি করে আসছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাজারগুলোতে মাংস কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের মনে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ভোক্তাদের দাবি, অবিলম্বে এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং মাংসের দোকানে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সার্টিফিকেট প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম আব্দুল আল মামুন দাবি করেন, তাদের লোকবলের অভাব। তাছাড়া নির্দিষ্ট জবাইখানা না থাকায় কখন কোথায় পশু জবাই হচ্ছে তার তথ্য তাদের কাছে নেই। এ কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। তিনি দাবি করেন, এই কাজগুলো করার কথা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের।
জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, ২০১১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী এই কাজটি করার কথা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের। তারা কেন দায় এড়াচ্ছেন, তা বোধগম্য নয়।
প্রতিনিধি/এজে