জেলা প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
গাইবান্ধা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমন চারা রোপণের কাজ। তবে নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা চারা সংকটে পড়ছেন। আর উঁচু এলাকার কৃষকের উদ্বৃত্ত চারাগুলো হাটে তোলা হলেও তা দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। প্রতিপোন চারা (২০ গোন্ডা) কেনা-বেচা হচ্ছে- ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দামে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে চারা ক্রেতাদের অভিযোগ।

সম্প্রতি গাইবান্ধার, দাড়িয়াপুর, কামদিয়া, ভরতখালী, সাদুল্লাপুর ও মীরপুর, হাটে গিয়ে দেখা গেছে- আমন ধান চারা অধিক দামের কেনাবেচার দৃশ্য। এসময় বেশ কিছু দালাল চক্র কৃষকদের চারা কেনা-বেচা করে দেওয়ার নামে পকেটস্থ করছে টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৪০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জন ৯৫ হাজার হেক্টর। আর ৮ হাজার ৩০০ হেক্টর বীজতলার উৎপাদিত চারা দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কথা। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা আমন ধান আবাদ করলেও তারা কখনও চারা উৎপাদন করেন না। উঁচু এলাকার কৃষকদের উদ্বৃত্ত চারা কিনে রোপণ করে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি হওয়ায় হাট-বাজারে চারার দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

জেলার হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু এলাকার কৃষকরা রিকশাভ্যান ও বাইসাইকেল যোগে বস্তাভর্তি করে ধানের চারা এনে ওইসব হাটে বিক্রি করেছেন। আর ক্রেতারা মান যাচাই ও জাত নির্ণয়ে চাহিদা মতো চারা কিনছেন। রীতিমতো সেখান থেকে অধিক দামে চারা কিনে নিয়ে জমিতে রোপণ করছেন।
ধাপের হাটে চারা বিক্রেতা আব্দুল বলেন, আমার জমির বীজতলায় চারা উৎপাদন করা হয়। নিজের জমিতে চারা লাগানো হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৬ পোন চারা ৫ হাজার ৬০০ হাজার টাকায় হাটে বিক্রি করলাম। যার এই এছাড়া প্রতিপোন চারা বিক্রি বাবদ ২৫ টাকা হারে ইজারাদারকে দিতে হয়েছে।
কামারজানি চর এলাকার চারা কিনতে সাজেদুল হক বলেন, এ বছরে ২ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আমরা কখনও চারা উৎপাদন করি না। উঁচু এলাকা থেকে চারা কিনে আবাদ করে থাকি। এ বছর প্রতিপোন চারা ৫০০ হাজার ৬০০ টাকা দরে কিনেছি। চারার দাম দ্বিগুণ হওয়ায় চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব না।
নিজের জমি না থাকায় প্রতিবেশী এক ব্যক্তির ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন বলে জানালেন কৃষক খাজা মিয়া। সেই জমিতে রোপণ করতে ৫ হাজার টাকা দিয়ে চারা কিনেছেন। এভাবে চড়া দামে চারা-সার কীটনাশক কিনে আবাদ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের চাহিদা বেশি থাকায় হাটে অধিক দামে চারা বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের লাভবান করতে চলতি মৌসুমে জেলার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভালো ফলন পেতেও সার্বিক পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিনিধি/ এজে