নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) অন্তত আরও ৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা নুরুল আলম আশেক। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার পথে তিনজন এবং দুই শ্রমিক হাসপাতালে মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৫ জন।
তিনি জানান, শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার পর ১০ শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ফেরদৌস স্টিল নামক শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে বলে শুনেছি। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০ শ্রমিককে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।
একই কথা বলেছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান। তিনি বলেন, আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।
তবে ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল নয়টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজে একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়। এতে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে গিয়ে গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কয়েকজন। কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় শতাধিক বিক্ষুব্ধ লোক ইয়ার্ডে গিয়ে ভাঙচুর করেছে। অনেক মালামাল নিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সীতাকুন্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে যারা মারা গেছে ও আহত হয়েছে তারা সবাই ইয়ার্ডের শ্রমিক। বহিরাগত লোক তো ইয়ার্ডে ঢুকতে পারে না। বহিরাগত মারা যাবে কোথা থেকে।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) মতে, সীতাকুন্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে শুক্রবারও গোপনে কাজ চলে। শিপইয়ার্ড মালিকরা শ্রমিকদের দিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন করে কাজ করায়। যা দেখার দায়িত্ব কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের (ডিআইএফই)। কিন্তু তারা তা দেখে না। ফলে শ্রমিকরা ইয়ার্ডগুলোতে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে কাজ করে।
/এএস