Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

স্বাধীনভাবে ভোটের সুযোগ পেলে ১১ দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন: পরওয়ার

জেলা প্রতিনিধি

১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

‘এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমপিদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়; তাহলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ৭৩ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বাধ্য করে রেখেছে। এ ধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এ জন্যই সংবিধান সংস্কার করা দরকার। আমরা দাবিও জানিয়েছি, কিন্তু সরকার তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করবে না। কারণ নিজেরা ভোট দেওয়া গণভোটই তারা মানছে না। 

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।

এর আগে তিনি ইউএস বাংলার একটা ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছেন। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যের দুই দিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করতেই তার এই আগমন। 

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অন্যতম অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। 

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে অনিয়মতান্ত্রিক কাজে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। যে কারণে ব্যাপক অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে সরকার দলে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কার্ড দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করাসহ অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন নোংরামিও দেখা যাচ্ছে। 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু এই ক্ষেত্রে নয়; বরং সাংবিধানিক ৮টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি সরকার চরম অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। এভাবে সারাদেশে জেলা পরিষদ, সিটি ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। একইসাথে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগকৃত সরকার দলীয় লোকদেরও স্থানীয় নির্বাচন অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার দাবি করেছি। 

সাবেক এমপি পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ঐক্যমত কমিশনে সম্মত হয়েও তারা সংস্কার কমিশনই অস্বীকার করছে। অথচ একই অধ্যাদেশে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছে। অর্থাৎ যেটাতে তাদের সুবিধা হবে, সেটা মানবে আর যেটা করলে দেশ ও জনগণের জন্য ভালো হবে- তা করবে না। এমন দ্বিচারিতার কারণেই আগামীতে ভরাডুবি হবে। স্থানীয় নির্বাচনেই এর প্রতিফলন ঘটবে। 

তিনি বলেন, জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে যেন জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নয়। তাই তাদের কোনো অধিকার নাই। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। 

বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করছে সরকার- এমন অভিযোগ করেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দও কাটছাট করে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে তারা। আর বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মেতে উঠেছে।

প্রতিনিধি/এলএ