জেলা প্রতিনিধি
১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক চার ঘটনায় তরুণসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন পুকুরে ডুবে, দু’জন বিষাক্ত পদার্থ সেবনে এবং একজন গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জেলার সদর ও রানীশংকৈল উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার জমিদারপাড়ার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম (১৮) বাবার সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকায় মামার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির দক্ষিণ পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। ঘাটে তাঁর স্যান্ডেল, কাপড় ও মুঠোফোন পড়ে থাকতে দেখে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পানির নিচ থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, পারিবারিক অভাব-অনটন ও ঋণের কারণে সদর উপজেলার আকচা কাজীপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান (৫৩) ঘাস মারার বিষ পান করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে সবার অজান্তে বিষ পান করলে তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশমাইল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের বাঁশগাড়া গ্রামের মহসিন আলী (৪১) ইঁদুর মারার গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেল তিনটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া রানীশংকৈল উপজেলার কিসমত সিন্দাগড় গ্রামে রুপালি রাণী (৩২) নামের এক নারী গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন। বুধবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বামী শেমল চন্দ্র রায় জানান, রুপালি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক, হৃদরোগ ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
ঠাকুরগাঁও সদর ও রানীশংকৈল থানা-পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক ঘটনাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিনিধি/ এজে