Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সাভারে পৃথক বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ২ মামলা

উপজেলা প্রতিনিধি

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

সাভারে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ১০টি তাজা পাইপ বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর ছয় সদস্যের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে পুলিশ।

মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে— কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার ফেকামারা এলাকার মো. হানিফের ছেলে মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬), সাভারের শ্যামপুরের মৃত ইসমাইলের ছেলে মো. নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো. আমিন উদ্দিন খানের ছেলে মো. আক্কাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০) কে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট রাতে সাভারের ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় নব্য জেএমবির সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। খবর পেয়ে সিটিটিসির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় আরিফকে গ্রেফতার করা হলেও অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যান।

পরে গ্রেফতার আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় সিটিটিসি। সেখান থেকে ৯৮ শতাংশ ঘনমাত্রার সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম নাইট্রেট পাউডার, আইইডি তৈরির ডেটোনেটর, রিমোট কন্ট্রোলার, ভোল্টমিটার, জিপার ভর্তি বিয়ারিং বলসহ প্রায় আড়াই ডজন আলামত জব্দ করা হয়।

এছাড়া ওই বাসা থেকে ১০টি তৈরি তাজা পাইপ বোমা বা আইইডি উদ্ধার করা হয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলেই সেগুলো নিরাপদে ধ্বংস করে।

ওসি সাইফুল আলম বলেন, শ্যামপুরের ঘটনায় এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার আরিফকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সাভার মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি সিটিটিসির একাধিক দল, র‍্যাব ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে কাজ করছে।

এদিকে, সাভারের সাধাপুর এলাকায় প্রেসার কুকারসদৃশ বোমা উদ্ধারের ঘটনায়ও পৃথক মামলা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, সাধাপুর এলাকায় উদ্ধার হওয়া প্রেসার কুকারসদৃশ বস্তুটি ঘিরে তদন্ত চলছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি