জেলা প্রতিনিধি
১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ৪ সদস্যকে বেদম পিটুনির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী পরিবার দুইদিন ধরে থানায় ঘুরার পরও মামলা কিংবা লিখিত অভিযোগ নিচ্ছেন না কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এর আগে, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চর লরেঞ্চ ইউনিয়নের (৯ নং ওয়ার্ডের) তারার বাপের বাড়ির সামনে এ বেদম হামলার শিকার হন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আহতরা হলেন, দ্বীন মোহাম্মদ তার স্ত্রী শাহিনুর বেগম, কলেজপড়ুয়া ছোট ছেলে রাজীব হোসেন ও পুত্রবধূ রুমি আক্তার। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলাকারীরা হলেন- প্রতিবেশী আবু তাহের, বিল্লাল ও শাকিলসহ তাদের লোকজন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আবু তাহের ও তার প্রতিবেশী দ্বীন মোহাম্মদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বীন মোহাম্মদের স।
এতে বেদম পিটুনির শিকার হন কলেজপড়ুয়া ছাত্র রাজীব হোসেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা-বাবা ও ভাইয়ের স্ত্রী রুমি আক্তার হামলার শিকার হয়। তাদের বসতঘরেও হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী দ্বীন মোহাম্মদের মেজো ছেলে শরীফ হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, তার মা-বাবা, ছোট ভাই ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে বেদম মারধর করা হয়েছে। ভাঙচুর চালানো হয় তাদের বাড়ি ঘরে। থানার বাসিন্দায় দুইদিন ঘুরার পরও ওসি মামলা নেননি। মামলা নিবেন বলে আমাদের হাতে মামলার এজাহার লিখিয়েছিলেন। পরে কি কারণে মামলাটি এন্ট্রি করেননি। আমাদেরকে থানা থেকে বের করে দেন।
এদিকে হাসপাতালের বিছানায় কান্না জনিত কন্ঠে কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন জানান, আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু দুইদিন পার হয়ে যাচ্ছে থানায় মামলা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
হামলার বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নয়। ছোট বাচ্চাদের কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যেই মারামারি হয়। মারামারিতে দু'পক্ষই আহত হয়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম মুঠোফোনে জানান, সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সত্য প্রকাশ করা। যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট করা। কি কারণে ভুক্তভোগীদের মামলাটি নেওয়া হয়নি? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি (ওসি) এড়িয়ে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ মো. সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এআরএম