জেলা প্রতিনিধি
১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম(৫০) অবশেষে মারা গেছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বিস্ফোরণের পর নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মানেন তিনি। হনুফার মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত হনুফা বেগমের জামাতা সুজনের বরাত দিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানান, গত ৩ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়। পরে শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হনুফার মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম সুস্থ হয়ে উঠলেও গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগমের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বুধবার বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মামুন খন্দকার আরও বলেন, আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন বহন করবে। একই সঙ্গে নিহত হনুফা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে বরিশালে নিয়ে আসার খরচও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহম্মেদ বলেন, ‘হনুফা বেগমের মৃত্যুর খবরে আমরা সত্যিই মর্মাহত ও ব্যথিত। সোমবার সন্ধ্যায় আমরা শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখতে পাই। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদের ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অন্য দুজন সুস্থ হয়ে উঠলেও হনুফা বেগমের মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করেছে।’
তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিভাগীয় প্রশাসন বহন করবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট সকালে ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও নাতি ফাহিম অগ্নিদগ্ধ হন। ঘটনার পর থেকে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে।
প্রতিনিধি/ এজে