বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ক্যাম্পাসে সকাল কিংবা বিকেল সবুজ মাঠে ধনুক হাতে নিয়মিত অনুশীলন করতে দেখা যায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রাহিম হোসেনকে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পাহাড়ি জনপদ বান্দরবানের লামা উপজেলার এই তরুণ জাতীয় আর্চারি দলের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে চান।
রাহিমের আর্চারির প্রতি ভালোবাসার শুরু স্কুলজীবনে। লামা কোয়ান্টাম কসম স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নকালে খেলাটির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লামা শাখার ইনচার্জ সালেহ আহমেদের অনুপ্রেরণায় ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি পেশাদারভাবে আর্চারির জগতে যাত্রা শুরু করেন।
২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশ আর্চারি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন রাহিম। বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার আর্চারি ক্লাবের সদস্য হিসেবে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন তিনি। জাতীয় আর্চারি প্রতিযোগিতায় দুটি রৌপ্য পদক, বাংলাদেশ আর্চারি লিগে একটি স্বর্ণ ও দুটি রৌপ্য পদকসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পদক অর্জন করেছেন যবিপ্রবির শিক্ষার্থী রাহিম।
আর্চারিতে সফল হওয়ার জন্য মনোযোগ, ধৈর্য ও শারীরিক ফিটনেস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি অনুশীলনেও সমান গুরুত্ব দেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সপ্তাহে ছয় দিন, প্রতিদিন সকাল ও বিকেল মিলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অনুশীলন করেন। যবিপ্রবিতে আর্চারি অনুশীলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে আবেদন করার পর নিয়মিত অনুশীলনের অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। তবে যবিপ্রবিতে আর্চারির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
যবিপ্রবির শিক্ষার্থী রাহিম হোসেন বলেন, আর্চারি ব্যয়বহুল একটি খেলা। প্রতিযোগিতামূলক ভালো মানের একটি ধনুকের মূল্য পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। এমন ব্যয়বহুল খেলায় টিকে থাকার পথে পরিবারের সাপোর্ট আমার জন্য বিশেষ নিয়ামত। বিশেষ করে আজ আমি যতটুকু পথ এগিয়েছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার মায়ের। তাঁর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন, আমি একজন আর্চার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। দেশের জন্য ভালো কিছু করাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
প্রতিনিধি/ এজে