জেলা প্রতিনিধি
১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরের একটি পাকা সড়কের ওপর বসানো হয়েছে অননুমোদিত ছাগলের হাট। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র যানজটে পোহাতে হচ্ছে যাত্রী দুর্ভোগ। আর এই অবৈধ হাট থেকেই নিয়মিত চাঁদা (টোল) আদায় করছে খোদ পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অনবগত না থাকার দাবি করেছেন পৌর প্রশাসক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের মাইলোড়া খেলার মাঠের পাশে মোহনগঞ্জ-আদর্শনগর পাকা সড়কের ওপর গত এক বছর ধরে প্রতি বুধবার এই অস্থায়ী ছাগলের হাট বসছে। সরেজমিনে আজ বুধবার দুপুরে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর কেনা-বেচা চলায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাটটিতে কেনা-বেচা হওয়া প্রতিটি ছাগল থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছেন পৌরসভার কর্মীরা, যার বিপরীতে সরকারি রশিদও দেওয়া হচ্ছে।
ছাগল বিক্রি করতে আসা রিপন মিয়া জানান, প্রতি ছাগলে ১০০ টাকা করে পৌরসভাকে দিতে হয়। বাড়ির কাছে কেনা-বেচা করতে পারায় কিছুটা সুবিধা হলেও এটি প্রধান সড়কে হওয়ায় পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রী ও স্থানীয় অধিবাসীরা সড়কের ওপর থেকে হাটটি সরানোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, জনভোগান্তি তৈরি করে রাস্তার ওপর হাট বসানো অনুচিত। অননুমোদনহীন হাট থেকে টাকা তোলাও অবৈধ। পৌরসভার উচিত গরু-ছাগলের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গার ব্যবস্থা করা।
অন্য বাসিন্দা রনি মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভার কাজ রাস্তার অবৈধ হাট উচ্ছেদ করা, অথচ তারা টাকা তুলে উল্টো অবৈধ হাটকে বৈধতা দিচ্ছে।
টোল আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী সাইফুল আমিন বলেন, এই হাটটি স্থানীয়রাই গড়ে তুলেছে। আগে মাঠে কিছু ছাগল উঠত এবং বাইরের লোক খাজনা নিত। ধীরে ধীরে হাটে মানুষ বাড়ছে। এখন পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে টাকা তোলা হচ্ছে। আমাদের পৌরসভার একজন স্টাই এই টাকা তুলছে। শহরের জন্য ছাগলের হাট দরকারি এবং এতে মানুষের উপকারই হচ্ছে। তবে হাটটি পৌরসভার অনুমোদন নেই বলেও জানান তিনি।
পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন বলেন, সড়কের ওপর ছাগলের হাট বসার বিষয়টি আমার জানা নেই। হাটটি অনুমোদিত কি না কিংবা এখান থেকে পৌরসভা টাকা তুলছে কি না, সে বিষয়েও আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে সড়ক থেকে হাট সরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে।
প্রতিনিধি/ এজে