জেলা প্রতিনিধি
১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গাছের চারার পরিবর্তে ডাল পুঁতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করার অভিযোগে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১৪ নম্বর মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এ–সংক্রান্ত অফিস আদেশ গত ৬ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহেদুল ইসলাম।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বৃক্ষরোপণ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণের পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করা হয়েছে। অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদারকে গত ১৯ জুলাই চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী শুধু খোরাকি ভাতা পাবেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচির আওতায় গত ১৫ জুলাই প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফলদ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে চারার পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করান। পরে সেই ছবি শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে প্রকাশ করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১৯ জুলাই কাউখালী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শ্যামল চন্দ্র হালদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালের বিরুদ্ধে চরিত্র হনন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে বিভিন্ন দফতরে প্রতিকার চেয়েছেন বিদ্যালয়টির নারী সহকর্মী শিক্ষিকা ফেরদৌসী আক্তার।
ফেরদৌসী আক্তার বলেন, এ বিষয়ে বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন তিনি।
কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহেদুল ইসলাম বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গত ১৯ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের মেয়াদ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। নারী শিক্ষকের দেওয়া অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস