Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কারাগারে হাজী নজরুল, ‘রুখে দাঁড়ানোর‘ ডাক গাজী নজরুলের

জেলা প্রতিনিধি

১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে সরব হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি চেয়ারম্যানের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে শ্যামনগরবাসীকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ‘মিথ্যা ও মুখরোচক অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে।’

তিনি লেখেন, ‘হাইকোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা প্রতিপক্ষের ‘কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল’।

Screenshot_2026-08-12_132633

পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্র’ করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে। এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে শ্যামনগরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ভবিষ্যতে এলাকায় সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব গড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে হাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় চাঁদা দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। এ ছাড়া তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর এবং তাকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিংম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগগুলো অস্বীকার করে হাজী নজরুল ইসলাম দাবি করে আসছেন, মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগ ওঠার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন বলেও তার দাবি।

এর আগে হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডল উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পান। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে ফেসবুক পোস্টে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম আদালতের ওই আদেশকে ‘হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানো’ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিনিধি/এমআই