জেলা প্রতিনিধি
১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
আদালতের নির্দেশের পরও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান গত ৯ আগস্ট এ আদেশ দেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ওসি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের স্টেনোগ্রাফার মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার মোমারিজপুর গ্রামের বিবি মারজাহান নামের এক নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থানায় মামলা করতে যান। তবে ওসি তার লিখিত আবেদন গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারক ঘটনাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের ওই নির্দেশও বাস্তবায়ন করেননি ওসি। পরে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আবার আদালতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে দাগনভূঞা থানার ওসির দায়িত্বে থাকার অযোগ্য উল্লেখ করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ তদন্তের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ, মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে অর্থ দাবি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে ওসি প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ২০১৯ সালে বিজয়নগর থানায় দায়িত্ব পালনের সময় মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই সময় তার শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে ৩৫০টি ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হয়েছিল।
সম্প্রতি গরু চুরি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দাগনভূঞার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যেই আদালত থেকে তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলো।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ওসির প্রত্যক্ষ মদদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিনি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ইন্ধন দিচ্ছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সম্মানহানি করা যেন তাঁর নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
আদালতের আদেশের বিষয়ে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ওসি ফয়জুল আজিম বলেন, ‘আদালত কী নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি আদালতের বিষয়। আমি যা করেছি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই করেছি। একটি আত্মহত্যার ঘটনাকে আমি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করতে পারি না। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।’
প্রতিনিধি/এসএস