Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মিরসরাইয়ে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম

উপজেলা প্রতিনিধি

১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে নুরুল আলম (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। ডাকাতেরা বাড়ি থেকে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে গেছে বলে দাবি পরিবারের।

সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের নুরুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পরে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুরুল আলমের দুই ছেলে গিয়াস উদ্দিন সিঙ্গাপুর ও নুর উদ্দিন কাতারে থাকেন। বাড়িতে নুরুল আলম ছাড়া আর কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না।

6fa2f7dc-4948-4fcc-a064-cc923332606e

পরিবারের ভাষ্য, সোমবার দিবাগত রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির বেলকনির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ফেলা হয়। কাতারপ্রবাসী নুর উদ্দিনের স্ত্রী সাহেলা আক্তার সুমিকে বেঁধে রেখে তাঁর সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও স্বর্ণালংকার বের করে দিতে বলে ডাকাতেরা।

একপর্যায়ে নুরুল আলম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাঁর মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখা হয়। এরপর ডাকাতেরা প্রবাসী দুই ছেলের ঘরের আলমারি ও ওয়্যারড্রপ তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

নুরুল আলম বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে আমি ছাড়া কোনো পুরুষ নেই, সবাই প্রবাসে। রাতে ১৫ থেকে ২০ জন লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে আমার দুই ছেলের ঘরের দরজা ভেঙে ফেলে। আলমারি ও ওয়্যারড্রপ থেকে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ আড়াই লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল নিয়ে যায়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে মাথায় অস্ত্র ধরে রাখে।’

সাহেলা আক্তার সুমি বলেন, ‘আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। ডাকাতেরা বেলকনির দরজা ভেঙে আমাকে বেঁধে ফেলে। আমার ছেলে-মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যা আছে দিয়ে দিতে বলে। এরপর আমার শ্বশুরকে মারধর করে। ঘরের সব জিনিসপত্র এলোমেলো করে স্বর্ণ, টাকা ও দুটি মোবাইল নিয়ে যায়।’

ea857bd0-e7f8-4af5-8661-c55b1f917e0f

গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, ‘ওরা সবাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছিল। কারও হাতে ছুরি, আবার কারও হাতে পিস্তল ছিল। কাউকেই চিনতে পারিনি। তবে গলার আওয়াজ শুনে স্থানীয় বলে মনে হয়েছে।’

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। দ্রুত ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে এবং জড়িতদের আটক করা সম্ভব হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস