Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

রাজবাড়ীতে মৎস্য ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

১১ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩ এএম

রাজবাড়ী জেলা সদরের বানিবহ ইউনিয়নে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন মো. আরজু সেখ (৩৯) নামে এক মৎস্য ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে সঙ্গে থাকা নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বানিবহ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বার্থা বিলপাড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত আরজু সেখ বার্থা গ্রামের আব্দুল মজিদ সেখের ছেলে।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে আরজু সেখ তার ছোট ভাই মো, আনিসের দোকানের বিক্রির টাকা এবং নিজ খামারের মাছ বিক্রির নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নিজ বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৭ থেকে ১০ জনের একদল দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় সঙ্গে থাকা ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আরজু সেখ এ বলেন, বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কোপাতে থাকে। এসময় আমার সঙ্গে থাকা ব্যবসার প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। আমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আহত আরজু সেখের ছোট ভাই মো. আনিস অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তিনি একজন খেটে খাওয়া ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ব্যবসা ও দোকান বিক্রির টাকা ঘরে তোলার সময়ই সন্ত্রাসী কায়দায় তার ওপর এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা আমাদের পূর্বপরিচিত কিংবা চিহ্নিত অপরাধী চক্র হতে পারে, যারা হয়তো আগেই টের পেয়েছিল যে তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে। তারা আমার ভাইকে হত্যা করতে হামলা করেছে। ভাগ্যক্রমে স্থানীয়রা চলে আসায় তার প্রাণ রক্ষা পেয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশের কাছে আকুল আবেদন, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হোক এবং যে ৭ থেকে ১০ জন সন্ত্রাসী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনুপ কুমার বিশ্বাস জানান, রোগীকে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে গুরুতর জখম অবস্থায় জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও পরবর্তী চোটের জটিলতা এড়াতে নিয়মিত শারীরিক নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

 

রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে।

প্রতিনিধি/টিবি