Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

গলায় রামদা ঠেকিয়ে এমপি নাছিরের সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ এএম

সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তি জোর করে লিখে দেওয়া অভিযোগ উঠেছে সৎ ভাইদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে সোমবার (১০ আগস্ট) সুনামগঞ্জ আদালতে মামলা করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। পারভিন আক্তারের পক্ষে মামলা করেন অ্যাডভোকেট কাওছার আলম।

মামলার বিবাদীরা হলেন- নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম ও দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য অনেক আগেই পরিকল্পনা করেন আসামিরা। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই এসআরও অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাঝিয়ে অসুস্থ ও অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তারা গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে খুন করার ভয় দেখায়।

এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাকেও হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শেলী চৌধুরী মেঝেতে ঢলে পড়েন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থক ওয়াকিব হাসান বাড়িতে গেলে তিনি ঘটনাটি দেখতে পান। পরে মঈন উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিব হাসানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বাদী পারভিন আক্তার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট শ্লীলতাহানির শিকার হন বলে উল্লেখ আছে মামলায়।

দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিষয়ে মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রি করেন সাব রেজিস্টার। আমার বোন এবং নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ‘প্রকৃত’ স্ত্রী বিষয়টি জানতেন। মামলা কী হয়েছে জানি না। জানার পরই আইনিভাবেই জবাব দেব।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে জয়ী হন বিএনপির প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাছির চৌধুরী। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরকে পরাজিত করে এমপি হন তিনি। নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ শিশির মনির পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট।

নাছির চৌধুরী এর আগে পাঁচবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দুবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। একবার সংসদ সদস্য ও দুবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

প্রতিনিধি/এমআর