Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ডোমারে এক স্কুলের সবাই ফেল

জেলা প্রতিনিধি

১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

নীলফামারীর ডোমারে আমবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। একসঙ্গে ১০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় বিদ্যালয়টির পাঠদান, শিক্ষার মান, নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে এসএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্যের ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর আমবাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। 

বিদ্যালয়ের আরবি শিক্ষক মোজাফফর হোসেন বলেন, এবার আমাদের বিদ্যালয় থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুঃখজনকভাবে কেউ পাস করতে পারেনি। বিষয়টি অবশ্যই আমাদের জন্য হতাশার। কোথায় ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আর আমাদের শিক্ষকের সংকট রয়েছে। আমাদের এই গ্রামের মানুষ সবাই একটু কৃষিনির্ভর। বাচ্চাদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হয়, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কম। আর প্রধান সমস্যা হচ্ছে বাল্যবিবাহ।

আরেক শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে শিক্ষার পুরো পরিস্থিতি বিচার করা যায় না। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ, অভিভাবকদের সহযোগিতা— এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে শতভাগ ফেল করার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী দিনে দুর্বলতা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিন্নাতুন আক্তার জানায়, অনেক সময় নিয়মিত ক্লাস হলেও সব বিষয় ভালোভাবে বুঝতে সমস্যা হতো। বিশেষ করে কঠিন বিষয়গুলোতে অতিরিক্ত ক্লাস বা আলাদা করে সহযোগিতা পাওয়া গেলে আমাদের প্রস্তুতি আরও ভালো হতে পারত।

আরেক শিক্ষার্থী পলি আক্তার জানায়, আমরা আমাদের বড় আপুদের দেখে বুঝলাম যে আমাদের নিজেদের ভালোভাবে পড়তে হবে। নিজের রেজাল্ট নিজের দায়িত্বে ভালো করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি বিদ্যালয় থেকে ১০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনও পাস না করা খুবই উদ্বেগজনক। এখানে শিক্ষার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা প্রয়োজন। শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী করলে হবে না, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কি না, পাঠদানের মান কেমন— এসবও দেখতে হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্কুল শুরু হয় ১৯৯২ সালে। একাডেমি স্বীকৃতি পাই আমরা ১৯৯৪ সালে। এটা জুনিয়র স্কুল ছিল, এখনো আছে। আমরা ২০০৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠদানের অনুমতি পাই। আমরা জুনিয়রের শিক্ষক দিয়েই পাঠদান চালাচ্ছি এবং আমাদের হাইস্কুলের কোনো শিক্ষক নেই। তাই হয়তো আমাদের এমন অবস্থা। আগে আমাদের রেজাল্ট ভালো ছিল, এবার কেন এমন হলো জানি না। আমাদের মোট শিক্ষক ৬ জন।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি- কেন খারাপ। এর জবাব দিতে হবে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এলএ