Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, রক্তাক্ত স্ত্রী উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই কক্ষের দরজার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৪) এবং পাশে ছিল তাদের ১০ মাস বয়সী কন্যাশিশু ফাতিহা।

সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের হোটেল রিল্যাক্স জোনের ১০৪ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি রাঙামাটি পুলিশ লাইনে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীশ্বরাই এলাকার মো. ইব্রাহীমের মেয়ে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রোববার দুপুর ২টার দিকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্ত্রী ও ১০ মাস বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আমিনুল ইসলাম হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। বিকেল, সন্ধ্যা ও রাত ৯টার দিকে তাকে কক্ষের বাইরে দেখা গেলেও স্ত্রী ও শিশুকে বাইরে দেখা যায়নি।

80e99a07-48d2-4f6b-9088-9973e0f11dd5

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোটেলকর্মীরা কক্ষ পরিষ্কার করার জন্য দরজায় একাধিকবার ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পরে ম্যানেজারও তাদের ডাকেন। একপর্যায়ে তাহমিনা রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। এরপর হোটেলকর্মীরা কক্ষের ভেতরে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তাহমিনাকে হাসপাতালে পাঠায়।

হোটেল রিল্যাক্স জোনের ম্যানেজার মো. সোহান বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রোববার দুপুরে আমিনুল ইসলাম ও তাহমিনা আক্তার হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তাদের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাশিশুও ছিল। খাবারের জন্য আমিনুলকে বাইরে যেতে দেখা গেলেও তাহমিনাকে দেখা যায়নি।’

তাহমিনার মা আমেনা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে আমিনুলের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমিনুল স্ত্রীকে ঠিকমতো ভরণপোষণ ও খোঁজখবর নিতেন না। মেয়ে সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর আমিনুল তাকে কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে রেখে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

আরও পড়ুন

ফোন পেয়ে বাসায় এসে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় পেলেন মা

তিনি বলেন, রোববার সকালে মেয়েকে নিয়ে খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন আমিনুল। বিকেলে তাহমিনা ফোন করে জানান, আমিনুল তাদের জন্য একটি বাসা নিয়েছেন এবং সোমবার সকালে সেখানে যাওয়ার কথা। পরে সোমবার সকালে তিনি খবর পান, তার মেয়ে হোটেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং আমিনুলের মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমিনুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। তার স্ত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রতিনিধি/এসএস