জেলা প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
মাদারীপুরের রাজৈরে গবাদিপশুর নির্ভেজাল খাবারের জন্য গড়ে উঠেছে পুষ্টিকর চিটাগুড় তৈরির কারখানা। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করতে অর্গানিক পদ্ধতির তৈরি হওয়া এই খাবার বিক্রি হচ্ছে সারাদেশে।
প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ায় কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকের। স্বল্প দামে এখান থেকে চিটাগুড় সংগ্রহ করতে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করছে প্রাণি সম্পদ অফিদফতর।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল একটি কড়াইয়ে রান্না করা হচ্ছে ৫ হাজার কেজি খাবার। একবারের রান্নায় ব্যবহার করা হয় ১৭-২০ মন লাকড়ি। এই কর্মযজ্ঞ দেখলে মনে হবে, এটি কোনো দাওয়াত বা উৎসবের আয়োজন।
তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞ মানুষের জন্য নয়, গরুর খাবারের জন্য। গবাদিপশুর জন্য ভেজালমুক্ত ও পুষ্টিকর চিটাগুড় তৈরির জন্য অর্ডার দিয়ে বানানো হয়েছে বিশাল আকৃতির লোহার কড়াই। একবার ৫ টন করে দিনে দুইবার মোট ১০ টন খাবার তৈরি হয়।
জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈরের চৈয়ারিবাড়ি এলাকায় ২০২৫ সালে ৭৮ শতাংশ জমির উপর প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যতিক্রমি এই প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন রুবেল হোসাইন। পশুবাদী পশুর প্রতি ভালোবাসায় নির্ভেজাল এই খাবার তৈরিতে সপ্তাহে তিন দিন জ্বালানো হয় চুলা।
প্রথমে কম থাকলেও আস্তে আস্তে বাড়ছে চিটাগুড়ের চাহিদা। সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় করে তোলার আশা উদ্যোক্তার।
তথ্য বলছে, জেলায় প্রথম গড়ে ওঠা একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক ৬-১০ জন শ্রমিকের ব্যস্ততায় ৬-৮ ঘণ্টা ধরে চলে অর্গানিক চিটাগুড়া তৈরির কাজ। ১-২৫ কেজি ওজনের প্যাকেটে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় গরুর জন্য তৈরি করা ভেজালমুক্ত খাবার। প্রতিকেজি চিটাগুড় পাইকারি বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়।
দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদি পশু মোটাতাজা করতে ব্যবহার হচ্ছে এই চিটাগুড়। পাশাপাশি স্বল্প দাম হওয়ায় অনেকেই মাছের খাবারের জন্যও নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ায় ভেতর ও বাইরে কাজের সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই।
কারাখানার শ্রমিক ফরিদ মুন্সি বলেন, ‘এখান কাজ করে পাওয়া বেতন দিয়ে ভালো মতো সংসার চালাতে পারছি। আমার মতো অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎসচাষি সুধির জয়ধর বলেন, ‘মাছের খাবারের জন্য সস্তায় চিটাগুড় কিনছি। মাছও দ্রুত বড় হচ্ছে।’
টেকেরহাট এলাকার গরুর খামারের মালিক রহিম সরদার বলেন, ‘আমার তিনটি গরুর খামার রয়েছে। আগে বাজার থেকে গরুর জন্য খাবার কিনতাম। দামও বেশি ছিল। এখন ফার্ম থেকে চিটাগুড় কিনে নিচ্ছি। নির্ভেজাল এই খাবারে পশু দ্রুত হৃষ্টপৃষ্ট হচ্ছে।’
অর্গানিক অ্যাগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তা মো. রুবেল হোসাইন বলেন, ‘আমি গবাদিপশুকে খুব ভালোবাসি। এই ভালোবাসা থেকেই অর্গানিক পদ্ধতিতে চিটাগুড় তৈরির উদ্যোগ নেই। প্রথমে লোকসান হলেও এখন বেশ ভালোই লাভ হচ্ছে। আগামীতে এটি আরও বৃহৎ আকারে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে সহজশর্তে ঋণ পাওয়া গেলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’
মাদারীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শচীন্দ্র নাথ মন্ডল জানান, উপজেলা ও জেলার সব গরুর খামারিদের এই অর্গানিক পদ্ধতিতে তৈরি পশুর খাবার সংগ্রহ করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি পশুর জন্য মানসম্মত ও নির্ভেজাল।
প্রতিনিধি/এএইচ