জেলা প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাস করেছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ বছর এই বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ শিক্ষার্থী। পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী স্বাক্ষরিত ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৭ পরীক্ষার্থীর অংশ নেওয়া কথা ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ হাজার ২২৩ জন ছাত্র এবং ৬৬ হাজার ৭১৭ জন ছাত্রী।
পরীক্ষা চলাকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৮৮ হাজার ৯৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং ছাত্রী ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।
পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই মেয়েরা এগিয়ে
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি-উভয় ক্ষেত্রেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে।
এবার যশোর বোর্ডে ছাত্রীদের পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও মেয়েদের সাফল্য বেশি। বোর্ডে মোট ১১ হাজার ৪৭৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩৫১ জন ছাত্রী এবং ৫ হাজার ১২৭ জন ছাত্র।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে সার্বিক পাসের হার ৮৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ১৩৬ জন শিক্ষার্থী।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭১ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে মানবিক বিভাগের ফলাফলে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার মাত্র ৪৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফলে এ বিভাগে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪৪ শতাংশে।
মানবিক বিভাগে মোট ৯৭১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ১৭৯ জন এবং ছাত্রী ৭৯২ জন।
১১ আগস্ট থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের পূর্ণ ক্ষমতা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ফলাফলে সংক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট সাত দিন ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) জন্য আবেদন করতে পারবে।
প্রতিনিধি/এমআর