Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

লোহাগড়া পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকিসহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন খাবারের দোকান, বেকারি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লাইসেন্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন তিনি। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আদায় করা হলেও তার সামান্য অংশ সরকারি খাতায় জমা দেখানো হয়।

পৌর শহরের একাধিক ফুড (খ্যাদের) দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লাইসেন্স নবায়ন বা প্রদানের ক্ষেত্রে দোকানভেদে ২ হাজার, ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হলেও সরকারি রসিদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা জমা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

সূত্র জানায়, ইকরাম হোসেন ২০১৬ সালে যশোরের নওপাড়া পৌরসভা থেকে বদলি হয়ে লোহাগড়া পৌরসভায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি ফুড লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর শহরে প্রায় ১৫০টির ঊর্ধ্বে বিভিন্ন ফুডের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩১টা দোকানে সীমিত অংকের টাকা আদায়ের হিসাব দেখানো হয়েছে যা বাস্তবে সামঞ্জস্য নয়। এছাড়াও বিভিন্ন বেকারি ও খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেও নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়, যার সঠিক হিসাব পৌরসভার রাজস্ব খাতায় পাওয়া যায় না।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লাইসেন্স বাবদ সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ১৮ হাজার ৮শ টাকা। অথচ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই সময়ে বিভিন্ন খাবারের দোকান, মুদি দোকান, বেকারি ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, লাইসেন্সের নামে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করার ভয় দেখানো হয়। এছাড়া রসিদে কম টাকা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে বেশি টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

এদিকে, পৌরসভার একাধিক সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস সময় মেনে চলেন না। অফিসের কাজে বাইরে গেলে কারণ উল্লেখ করে অফিস রেজিস্টারে নোট করার বিধান থাকলেও তিনি তা অনুসরণ করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইকরাম হোসেন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮ শত টাকা আদায় হয়েছে এবং সেই টাকাই আমি সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছি। এর বাইরে আর কোনো টাকা আদায় হয়নি।

এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) তোফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/টিবি