জেলা প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় জিআর (জেনারেল রিলিফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বরাদ্দ পাওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকরা প্রকৃতপক্ষে চাল উত্তোলন করেছেন কি না এবং উত্তোলন করা চাল কোথায় ব্যবহার হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে গত ৪ আগস্ট জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গত ২৪ মে নলছিটি উপজেলার ৪১টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৩ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মসজিদের নামে বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন ও ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে নলছিটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে আহ্বায়ক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝালকাঠির ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্য এবং নলছিটি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে কাঁঠিপাড়া গ্রামের মিয়া বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি বাহাউদ্দিন মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, তাদের মসজিদের নামে এক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি বা মসজিদ কমিটির কেউ এ বিষয়ে জানতেন না। তারা কোনো চালও পাননি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মসজিদের নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ চাল উত্তোলন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে নলছিটির সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমার বদলি হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
নলছিটির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ বলেন, ‘আমরা যাচাই-বাছাই করছি। ৪১টি প্রতিষ্ঠান যাচাই করতে একটু সময় লাগবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেব।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এসএস