Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নেত্রকোনায় নদীতে ব্যক্তির লাশ, বাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

নেত্রকোনার সদর ও দুর্গাপুর উপজেলায় এক গৃহবধূ ও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে পৃথক স্থান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুজন হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণকাটলি এলাকার নাজমুল হাসান নাহিদের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২৫) এবং দুর্গাপুর উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের বরইউন্দ গ্রামের মৃত আবদুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে শাহীন চৌধুরী (৫৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে দুর্গাপুর উপজেলার পূর্ব বাকলজোড়া এলাকার সোমেশ্বরী নদীতে শাহীন চৌধুরীর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

স্থানীয়রা জানান, শাহীন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, শাহীন প্রায় ৩০ বছর ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে অচেতন হয়ে পড়ে থাকতেন। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। পরিবারের আবেদনের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

অন্যদিকে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার জয়নগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্বর্ণা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাশে স্বর্ণার হাতে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, চিরকুটে স্বামীর সঙ্গে অভিমানের কথা লেখা ছিল। চিরকুটের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে স্বর্ণা আত্মহত্যা করেছেন।

ওসি আরও বলেন, ‘চিরকুটে ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ করা হলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রতিনিধি/এসএস