জেলা প্রতিনিধি
০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কাবিননামায় প্রতারণা, মালামাল আটকে রাখা, পরকীয়া ও হুমকির অভিযোগ এনে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার নামে এক নারী।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের বটতলায় প্রিন্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সোনিয়া আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পশ্চিমপাড়া এলাকার নজরুল মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী শাহিন মিয়া দেলদুয়ার উপজেলার চণ্ডী ইউনিয়নের পাথরাইল এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে। সোনিয়া ও শাহিন প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী শাহিন, শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোনিয়ার দাবি, শ্বশুরবাড়িতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল রয়েছে। এর মধ্যে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত সামগ্রীর মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার অর্থ ও মালামাল শ্বশুরবাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিয়ের দেনমোহর নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ করেন সোনিয়া। তার দাবি, বিয়ের সময় দেনমোহর তিন লাখ টাকা নির্ধারণের কথা থাকলেও পরে কাবিননামা হাতে পেয়ে সেখানে ৩০ হাজার টাকা লেখা দেখতে পান। কাজী ও স্বামীর পরিবারের সদস্যদের যোগসাজশে দেনমোহরের পরিমাণ কম দেখিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তার স্বামী বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন সোনিয়া। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হতো বলে দাবি তার।
সোনিয়া আক্তার বলেন, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চাই।’
তবে সোনিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী শাহিন মিয়া। তিনি দাবি করেন, মুঠোফোনে কথা বলার একপর্যায়ে সোনিয়াকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে এবং তার সঙ্গে সোনিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন শাহিন।
প্রতিনিধি/এসএস