জেলা প্রতিনিধি
০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। আমরা সেটা স্বীকার করি। কিন্তু এই এক দফার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল এ দেশের জনগণ।’
তিনি বলেন, ‘ডা. তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার অনেকেই এনসিপি ছেড়েছেন। এর কারণ, এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, তখন এসব তরুণ নেতারা এনসিপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। অনেকেই বলছে, এনসিপি বলতে কিছু নাই, তারা মূলত জামায়াতের অঙ্গ।’
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রাশেদ।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিটবাজি শুরু করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদেরকে গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।’
রাশেদ বলেন, ‘এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিল জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী, জামায়াত দেশের সার্বভৌমত্ব চায় না। এসব কথাবার্তা বলার পর তারাই আবার জামায়াতের পকেটবন্দি হয়েছে। এনসিপির যে সকল প্রার্থী নির্বাচন করেছে, তার সকল খরচ দিয়েছে জামায়াত।’
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সুযোগ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের অনেক এমপি এখন সরকারি দলের এমপিদের সমান সুযোগ সুবিধা চাচ্ছেন। তারা তো সরকারি দলের এমপিদের মতোই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। অসুবিধা তো নেই। তারপরও তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে।’
রাশেদ আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কিন্তু বিরোধী দল কোনো সুযোগ সুবিধায় পেতো না। সেই হিসেবে বিএনপি সরকার কিন্তু বিরোধী দলকে অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, মূল্যায়ন করছে। তারপরও জামায়াত ও এনসিপির এমপিদের অবস্থা এমন যেন, সুখে থাকতে ভূতে কিলাচ্ছে।’
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রাজিব হাসান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা সুলাইমান হোসেন এবং বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রতিনিধি/এএইচ