Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় ট্রান্সফরমার চুরি, চোর চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা ইতোমধ্যে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫ টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। 

গত ৩ জুলাই রাতে জীবননগর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের দক্ষিণ মাঠে সেচের গভীর নলকূপ হতে তিনটি, এবং পাশের অন্য একটি সেচ প্রকল্প থেকে একটিসহ মোট ৪টি ট্রান্সফরমারের অভ্যন্তরীণ তামার তার ও তেল চুরির ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে জীবননগর থানায় একটি মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ এই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী থানার চাষিড়ি গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল মালেক (৪৫), চুয়াডাঙ্গা সদর থানার গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে স্বপন উদ্দিন (৩৭), ফার্মপাড়ার মৃত জাহিদ শেখের ছেলে শিপলু হোসেন (২৮), গাড়াবাড়ীয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে সবুজ শেখ (৩৭), জাফরপুরের আব্দুল গফুরের ছেলে জাফর আহম্মেদ (৩৮) এবং বগুড়া জেলার কাহালু থানার শাখোহালী গ্রামের মৃত কাশেম খাঁর ছেলে তসলিম ওরফে টুলু (৪৪)।

পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি), ডিবি ও জীবননগর থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে পিকআপসহ আব্দুল মালেককে এবং শুক্রবার (৭ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্য ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফর্মার চুরি করে আসছিল। তাদের মধ্যে কেউ রেকি, কেউ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং কেউ চোরাই মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব পালন করত।

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করেছে। আন্তঃজেলা এই চোর চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

প্রতিনিধি/এজে