Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

জেলা প্রতিনিধি

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাহমিনা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় স্বামী, শাশুড়িসহ পরিবারের কোনো সদস্যকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুক ও বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দাবির জেরে নির্যাতনের পর তাহমিনাকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের বাঘাসুরা গ্রামের তাহির মিয়ার বসতঘরের একটি বিছানা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত তাহমিনা আক্তার একই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামের ওসমান মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে বাঘাসুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তাহির মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।

নিহতের বাবা ওসমান মিয়ার অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাহমিনার মাধ্যমে টাকা দাবি করে আসছিলেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। চাহিদা মতো টাকা দিতে না পারায় বিভিন্ন সময় তাহমিনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

ওসমান মিয়া আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে টাকা-পয়সার বিষয় নিয়ে তাহমিনাকে মারধরের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। কিছুদিন আগে তার স্বামী তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনার মৃত্যুর খবর পান তারা।

নিহতের ভাই আলমগীর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনার এক ভাতিজার মোবাইল ফোন থেকে তাদের জানানো হয়, তাহমিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পেয়ে তারা দ্রুত শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাহমিনাকে বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তবে সে সময় বাড়িতে তার স্বামী, শাশুড়িসহ পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

তাহমিনার চাচাতো ভাই আনুব আলী বলেন, প্রায় তিন মাস আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল। ওই সময় তার ভাসুরের স্ত্রী তাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাহমিনা বাবার বাড়িতে চলে যান। কিছুদিন পর স্বামী তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, সর্বশেষ টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে তাহমিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। 

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, পুলিশ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাহমিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ