জেলা প্রতিনিধি
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বুধবার দিবাগত রাত থেকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বেড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গত কয়েক দিনের তুলনায় দীর্ঘ যানজট বা অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি দেখা যায়নি। অনেক চালক স্বাভাবিক সময়ের মধ্যেই গ্যাস সংগ্রহ করতে পেরেছেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে জানান, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেরামত শেষে ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মহেশখালীর অপর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরও ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, গত বুধবার তারা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সরবরাহ আরও বেড়েছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শিগগিরই সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত কয়েক দিন গ্যাসের জন্য পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। শুক্রবার সকালে এক ঘণ্টারও কম সময়ে গ্যাস নিতে পেরে আবার স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে পারছেন।

মহেশখালীর সিএনজিচালক শাহাবুদ্দীন কালু বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে প্রতিদিনের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। শুক্রবার পরিস্থিতির উন্নতি দেখে স্বস্তি ফিরেছে।
চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ওসমান আরা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে বাসায় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাবান্নায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। শুক্রবার সকালে আগের তুলনায় গ্যাসের চাপ ভালো পাওয়া গেছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটে শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়েছিলেন। সরবরাহ বাড়ায় এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

গত কয়েক দিন ধরে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়। অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে চালকদের পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গ্যাসসংকট দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়ায় আপাতত গ্যাসসংকট অনেকটাই কমবে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।
প্রতিনিধি/এসএস