জেলা প্রতিনিধি
০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দি হওয়ার পর দেড় বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর। পরিবারের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র তাকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ হিসেবে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছে। এরপরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিখোঁজ ছেলের ছবি হাতে নিয়ে আহাজারি করছেন মা শিল্পী বেগম। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজীব কোথায় আছেন বা কেমন আছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
স্বজনদের ভাষ্য, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়ে সদর উপজেলার হোগলপাটিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে রাজীব মীর। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাসে ২০ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট তাকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে আরও ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা না দেওয়ায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি পরিবারের।

এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই রাজীবের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে পুলিশ লোকমান হাওলাদার ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
শিল্পী বেগম বলেন, ‘দেড় বছর ধরে আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। লাখ লাখ টাকা হারিয়েছি, তবু ছেলেকে ফিরে পাইনি। সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি—আমার ছেলেকে খুঁজে দিন এবং দালালদের বিচার করুন।’

প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অনেক তরুণকে লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। এসব দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল কাজ করছে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস