Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

জেলা প্রতিনিধি

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:২০ পিএম

টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন আমতলী এলাকায় ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টিতে সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যানজটের সূত্রপাত হয়। পরে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করলে চট্টগ্রামমুখী লেনেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়।

যানজট নিরসনে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

46811430-3b26-43c1-b06c-f9e17442aeb4

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, গত তিন মাস ধরে এই অংশে সংস্কারকাজ চলমান। এরই মধ্যে সংস্কারকাজের আশপাশের অংশও ভেঙে যাচ্ছে। যানবাহনের তীব্র চাপ এবং দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে আমাদের পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সড়ক সংস্কার করা না হলে দিন দিন জনভোগান্তি আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সওজ বিভাগকে বারবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত অস্থায়ী বা স্থায়ী কোনো কার্যকর সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।

হাইওয়ে পুলিশ, কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, বৃষ্টি হলেই আমতলী এলাকার ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। গত তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল সড়কের পাশাপাশি সংস্কারকাজ চলাকালে ব্যবহৃত বিকল্প অংশেও পানি জমে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই দিনে শুধু এই স্থানেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই যানজট বাড়ছে এবং জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।

e503e71e-6bb9-4310-ac9d-2f563c7c1cf5

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী অংশের সংস্কারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম এর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মহাসড়কে আটকে পড়া কয়েকজন চালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রতিনিধি/এসএস