Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

গ্যাস সংকট নিরসনসহ নানা দাবিতে বিভিন্ন জেলায় ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

ঢাকা মেইল ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম

জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। এ সময় জোটের নেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।

বৃহস্পতিবার এ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

01

বাগেরহাট
ঘনঘন লোডশেডিং দূরীকরণ, গ্যাস সংকট নিরসন, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার, বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জোটের নেতাকর্মীরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস সংকট, তীব্র লোডশেডিং, বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।

জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। জনগণের স্বার্থে অবিলম্বে লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

কর্মসূচিতে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম, জেলা সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি রমিজ উদ্দিন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুস্তাইন বিল্লাহসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

02

শরীয়তপুর
একই দাবিতে শরীয়তপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাত দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেন জোটের নেতারা।

দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। 

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কে এম মকবুল হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি সাব্বির আহমেদ ওসমানী, জেলা জামায়াতের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার দেলোয়ার হোসেনসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপিতে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট, ঘনঘন লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন দামের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। 

এর সঙ্গে অভিযোগকৃত ভুয়া ও অতিরিক্ত বিল আদায়ের কারণে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনভোগান্তি আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

03

সিরাজগঞ্জ
বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের দরগা রোডে জামায়াতের জেলা কার্যালয় থেকে এসব দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। 

বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেন জোট নেতারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা সমন্বয়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির নাজিম উদ্দিন, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ সরকারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে দেশের সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের মাসিক ডিমান্ড চার্জ, মিটার চার্জ এবং ভুতুড়ে বিলের কারণে জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

04

ঝিনাইদহ
জনস্বার্থে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা জামায়াত ইসলামী। 

দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের হাতে এ স্মারকলিপি দেন দলের নেতারা।

এসময় জেলা শহরের শহীদ মিনার চত্বর থেকে জেলা জামায়াতের নেতারা একটি মিছিল বের করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌছান । এতে নেতৃত্ব দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়ালসহ অন্যরা ।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর মানববন্ধনে নেতারা বলেন, সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে আছে। নিত্যপ্রয়োজনীয়  জিনিষপত্রের লাগামহীন দামে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি তীব্র গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল আদায় অতিষ্ট করে তুলেছে জীবণযাাত্রা।

05

নোয়াখালী
একই দাবিতে নোয়াখালীতে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই স্মারকলিপিটি দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলামের কাছে দেন জোট নেতারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন, শহর সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ নেতিবাচক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

তারা স্মারকলিপির মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৬টি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে লোডশেডিং বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। তেল, গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিতকরণ। অতিরিক্ত ও ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের সঠিক তদন্ত করে সংশোধন এবং মিটার রিডিং ও বিলিং প্রক্রিয়ার অনিয়ম-দুর্নীতি দমন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি এবং মজুতদারি ও অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ।  দ্রব্যমূল্য ও জনজীবন সংশ্লিষ্ট সংকট নিরসনে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ।

06

চাঁদপুর
গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট।

সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন জোটের নেতারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শত শত মানুষের প্রাণহানি এবং হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশের পথচলার জন্য ‘জুলাই সনদ’ প্রণীত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

জোটের দাবি, গণভোটে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের পক্ষে জনরায় পাওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিলের সঙ্গে বিভিন্ন অযৌক্তিক চার্জ যুক্ত করে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। 

অন্যদিকে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে বাজারদরে।

স্মারকলিপিতে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— গণভোটে পাস হওয়া ‘জুলাই সনদ’ অবিলম্বে বাস্তবায়ন, রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি ও এলএনজি গ্যাসের দাম কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বৈধ গ্রাহকদের পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম কমানো, ডিমান্ড চার্জসহ বিদ্যুৎ বিলের সব অযৌক্তিক চার্জ বাতিল, লোডশেডিং বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বাজার মনিটরিং ও সরকারি অভিযান জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময়ে জোট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, এনসিপি চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম, খেলাফত মজলিসের নেতা তারেকুল ইসলাম, এলডিপির নেতা সারোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।

07

ঝালকাঠি
গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

সকাল ১০টার দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন জোটের নেতারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই, সদর উপজেলা আমির মনিরুজ্জামান তালুকদার, পৌর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বাবুসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় নেতারা বলেন, গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা, ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং তাদের উত্থাপিত ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় আগামীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

08

ফেনী
একই দাবিতে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে ১১ দলীয় জেটের। দুপুর ১২টায় শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয় । পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন নেতারা।

উপস্থিত ছিলেন- জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুর রহিম, সহকারী সেক্রেটারি জামাল উদ্দিন, শহর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, এবি পার্টির জেলা ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মামুন আনসারী, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আবদুল্লা আল মনসুর, শ্রমিক  কল্যাণ ফেডারেশন জেলা সভাপতি ফারুক আহমেদ আজাদ, জাগপা জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শিবিরের শহর সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

09

টাঙ্গাইল 
বিভিন্ন দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর টাঙ্গাইলে স্মারকলিপি দিয়েছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট।

দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে স্মারকলিপি দেন জোটের নেতারা।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল ও শফিকুল ইসলাম খান, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলাম, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা আমির ইকবাল হোসাইন বাদলসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় সরকার যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না কমায়, তাহলে জনগণ বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমে আসবে। এর ফল সরকারের জন্য কখনোই কল্যাণকর হবে না। সুতরাং জনগণকে রাস্তায় নামতে বাধ্য না করে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কমাতে হবে।

01

বরিশাল
গ্যাস সংকট, নিয়ন্ত্রণহীন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বরিশালে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। 

পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। 

দুপুরে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি হয়। কর্মসূচি শেষে একটি মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।

জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর।

এ সময় বক্তব্য দেন- জামায়াতের বরিশাল মহানগরের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আতিকুল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) বরিশাল জেলা সভাপতি মনির হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি বরিশাল মহানগর সভাপতি সোহেল মাহমুদ, মহানগর কর্মপরিষদের হাবিবুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরিশাল জেলা সদস্য সচিব আবু সাইদ খানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের অস্বাভাবিক ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হচ্ছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

02

পিরোজপুর
একই দাবিতে পিরোজপুরে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

বেলা ১১টায় পিরোজপুর শহরের সি-অফিস মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে ১১ দলের একটি প্রতিনিধিদল পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের পিরোজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি জহিরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক, জেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি সোহরাব হোসাইন জুয়েল, পৌর শাখার সভাপতি ইসহাক আলী খান, পৌর সেক্রেটারি আল আমীন সেখসহ জামায়াত ও শরিক ১১ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপিতে দেশের চলমান গ্যাস সংকট, ঘন ঘন লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ও ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিনিধি/এলএ