Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় জেলায় জেলায় জুলাই স্মরণ

ঢাকা মেইল ডেস্ক

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ করা হয় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-এর কার্যক্রম। 

২০২৫ সালে ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার সেই দিনটি (৫ আগস্ট) জুলাইয়ের পক্ষের সকল শক্তি মহানন্দে উদযাপন করে। তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। 

এরই ধারাবাহিকতায় এবার জুলাইয়ের শক্তিগুলো রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুধবার নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করে। 

এ নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো-   

1-panchagar

পঞ্চগড়
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড় শহরের শেরে বাংলা পার্কে জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রয়েছে। 

তিনি জুলাই আন্দোলনের সব শহীদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমান নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

এর আগে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জুলাই শহীদ পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে সরকারি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই আন্দোলনে আহতযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দিবসটি উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং পঞ্চগড়ের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

02

রংপুর
প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও রংপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ ও তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারা।

নগরীর রংপুর টাউন হলের বিপরীতে লক্ষী সিনেমা হলের স্থানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে জড়ো হন হাজারো মানুষ। 

এর আগে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও ফুল হাতে সাধারণ মানুষ, শহীদ পরিবার এবং বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। পরে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। 

এছাড়াও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং জুলাইযোদ্ধারা যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। 

এরপরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল হয়। এসময় শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 

এছাড়াও জেলাজুড়ে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দিনটি উপলক্ষে এতিমখানা, সরকারি হাসপাতাল এবং শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। 

দিবসটি উপলক্ষে জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আনন্দ শোভাযাত্রা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

2-jessore

যশোর
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোরে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ হয়েছে। জেলা বিএনপি আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সবার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। কিন্তু আমরা যদি আবারও শেখ হাসিনার মতো আচরণ করি বা তার ভাষায় কথা বলি, তবে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা সেই পুরোনো খারাপ দিনে ফিরে যেতে চাই না। তাই গণতন্ত্রের সকল শক্তিকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি অর্জিত হয়েছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। রাজপথের লড়াই এবং কারাবরণ আমাদের শেখ হাসিনার মতো অত্যাচারী হওয়ার স্বাধীনতা দেয় না। আওয়ামী লীগের জুলুমের পথ অনুসরণের কোনো সুযোগ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শচ্যুতদের ঠাঁই বিএনপিতে হবে না। বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলন করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করাই এখন মূল লক্ষ্য।

যশোরকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, সীমান্তবর্তী এই জেলায় মাদকের ঝুঁকি রয়েছে। অতীতে যা-ই হোক, এখন থেকে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা থাকবে না। বর্তমান সরকারকে সফল করতে এবং এলাকাভিত্তিক মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালির নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম।

সমাবেশ ও র‍্যালিতে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন,  যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম ও মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ এবং সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতুসহ জেলা ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

01

টাঙ্গাইল 
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।

তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস করে কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।

জুলাইযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাইযোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব। 

তিনি বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ'- এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাইযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।

এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এ মতিন প্রমুখ।

03

পাবনা
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেছেন, জুলাইয়ের ৩৬ দিনের যে লড়াই- সেই লড়াইয়ের পটভূমি তৈরি করেছিল গত ১৮টি বছর। ১০ হাজারের মানুষ এইখানে আত্মহুতি দিয়েছে। আমরা জুলাইতে ২ হাজারের আত্মত্যাগের শহীদের সংখ্যা জানি, ১৪শ খবরের কাগজ লিখেছে, ৮৪৪ জনের ময়নাতদন্তে নাম এসেছে। এই সংখ্যা হিসাবেও জুলাইয়ের এত বড় হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে গণহত্যার পর্যায়েই আসে। এই এতো বড় ত্যাগ আমরা কখনোই বৃথা যেতে দিতে পারি না এবং বৃথা যাবেও না।

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে পাবনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপুরে পাবনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‌অকারণে যে আমাদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি না হয়। যখন আমাদের মধ্যে অনৈক্য আসবে, তখন শত্রুপক্ষ সুযোগ খুঁজবে। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য থাকবে, কিন্তু তরুণরা রাজনৈতিক গণ্ডির মধ্যে থাকবে না। তারাই সঠিক পথ দেখাবে। কোনো রাজনৈতিক পক্ষে না থেকে জাতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবে বিপ্লবীরা।

তিনি বলেন, আমরা যেন সমালোচনা করে নিজের ক্ষতি নিজেরা না নিয়ে আসি। পাবনায় যেই সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল সেই সংগ্রামে সবাইকে যেন ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়। আর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা যেন নেওয়া হয় এবং যথা উপযুক্ত ন্যায় বিচার করা হয়। এ জন্য বিচার বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, পুলিশ বিভাগ যার যার অবস্থান থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বিশু, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ইকবাল হুসাইন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওবায়দা শেখ তুহিন এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধারা বক্তব্য দেন।

04

রাজবাড়ী
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের ব্যবস্থা, প্রীতিভোজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯টায় রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ১০টায় রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা হয়। 

এ সময় প্রাপ্তি সাপেক্ষে জুলাই আন্দোলনভিত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্রও প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বাদ জোহর, বাদ আসর ও বাদ মাগরিব জেলার সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফেরাত, জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। 

দিবসটি উপলক্ষে রাজবাড়ী শিশু পার্ক, টাউন হল ডিসি পার্কসহ জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়। একই সঙ্গে জেলা সদর হাসপাতাল, জেলা কারাগার এবং সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)তে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। 

এদিকে জেলার প্রধান প্রধান সড়ক জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দিয়ে সজ্জিত করা হয়। 

জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা হয়। 

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরতেই এ কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

05

পিরোজপুর
ভাণ্ডারিয়ায় পৌরসভা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। 

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল প্রেরণা ও মহানায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা রয়েছে এবং মূল নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা তার কাছ থেকেই এসেছে। অথচ এখন আন্দোলনের সুফল দেখে কিছু দল নানা মুখরোচক কথা বলে বেড়াচ্ছে।

বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ওসি জগুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি মো. জুয়েল মৃধা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শামীম হাওলাদার এবং পৌর যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক রণি মোল্লাসহ অন্যরা।

শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে রাজধানীর মিরপুরে ১৫টি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে শহীদ পরিবার ও গুরুতর আহত যোদ্ধাদের এসব ভবনে বিনামূল্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে পিরোজপুর ও ভাণ্ডারিয়ার মানুষের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকট ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতে কোনো টেকসই কাজ না করায় আজ জনগণকে তার খেসারত দিতে হচ্ছে, তবে আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হবে। 

বিগত আমলে পিরোজপুর জেলাকে দুর্নীতির শীর্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লুটপাটের দায় সম্পূর্ণ তাদের। 

স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ভাণ্ডারিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙা রাস্তাঘাটের সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু হবে এবং এই অঞ্চলকে সম্পূর্ণ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে তিনি জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেওয়া হয়। 

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ এমদাদুল হকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

06

এ ছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পিরোজপুরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। 

সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুই, জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলমগীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসন, পিরোজপুর প্রেসক্লাব, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াত, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

এ সময় বক্তারা জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বেলা ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত‌, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রবসহ অনেকেই।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (আরডিসি) রুবাইয়াত ফেরদৌস।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের স্মৃতিকে ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

07

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐক্যমত প্রয়োজন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ। 

তিনি বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাইমুম পারভেজ বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করে প্রতিবেশী দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে তিনি উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন। পরে সেখানে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম। 

এতে আরও বক্তব্য দেন- জুলাইযোদ্ধা আল বশরী সোহান, সাইমুন সাদাব, সাংবাদিক আহসান হাবিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

08

চাঁদপুর
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যালি ও আলোচনা সভা হয়েছে। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সকাল ১০টায় শহরের ওয়াবদাগেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে র‍্যালিটি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

র‍্যালিটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়।

দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম. আতিকুর রহমান।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, জুলাই আন্দোলনকে আমাদেরকে সব সময় ধারণ করতে হবে। কারণ এই আন্দোলনে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। আর এই আন্দোলনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায় হয়েছে। এই আন্দোলনের পূর্ব বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। ওই ইতিহাসের সাথে ২৪ এর আন্দোলনে এর ইতিহাস ও যোগ হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার এই ত্যাগকে আমরা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত এই দেশকে ধরে রাখতে হবে। কারণ এই দেশে যেন আর কখনো কেউ আধিপত্য বিস্তার না করতে পারে।

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা তুলে ধরেন। 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

02

এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর শহরে গণমিছিল করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা।

বিকেলে শহরের বায়তুল আমিন চত্বর থেকে এই গণমিছিল বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে শহরের বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

এর আগে বায়তুল আমিন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দাম কমিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে বিল্লাল হোসেন মিয়াজী অভিযোগ করেন, সারাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও সতর্ক করেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি মো. শাহজাহান মিয়া, সহকারী সেক্রেটারি মো. আবুল হোসাইন, ফরিদগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. ইউনুছ হেলাল, চাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমির মো. শাহজাহান খান, এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুবুর আলম, খেলাফতে মজলিসের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি শোয়াইব।

জামায়াতের জেলা শাখার সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর শাখার সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির আফসার উদ্দিন মিয়াজী এবং ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাসিবুর রহমান হাসানসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গণমিছিলে অংশ নেন।

09

গাজীপুর
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা এবং জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়েছে।  শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দীন আইয়ুবি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার,  জিএমপি কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এর তাৎপর্য, স্বাধীনতার চেতনা এবং দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।

পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এর আগে সকালে শহরের শিববাড়ি এলাকায় জুলাই স্মৃতিস্তম্বে পুস্পস্তবক দিয়ে শহীদদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এদিকে, জুলাই শহীদ হৃদয়ের লাশের সন্ধান ও শহীদি স্বীকৃতি দাবিতে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে কফিন মিছিল হয়েছে। সকালে ‘৩৬ শে জুলাই’ পাঠাগারের উদ্যোগ কোনাবাড়ি -কাশিমপুর সড়কে হৃদয়ের প্রতিকী লাশের কফিন নিয়ে মিছিল শুরু হয়। পরে  কোনাবাড়ি থানার সামনে প্রতিবাদ সভা হয় । 

এসময় অবিলম্বে হৃদয় লাশের সন্ধান, শহীদ স্বীকৃতি ও ন্যায় বিচার দাবি করেন বক্তারা।

10

জয়পুরহাট
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জয়পুরহাটে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত ঐতিহাসিক এই আন্দোলনের দুই বছরপূর্তিতে সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহরের ড. আবুল কাশেম ময়দানে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

সকাল ৯টায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া, পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহাব,  সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। 

পর্যায়ক্রমে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধা, জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একই সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। 

দিবসটি উপলক্ষে জয়পুরহাটের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

11

বরগুনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করতে বরগুনায় যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস।  

দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধাঞ্জলি, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং ক্রীড়া আয়োজনসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সকালে বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে বরগুনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাছলিমা আক্তার শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। 

পরে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, সিভিল সার্জন মো. আবুল ফাত্তাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, পাবলিক প্রসিকিউটর নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সালেহ ফারুক, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনির হোসেন কামালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

পরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

এতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধারা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও সরকারি শিশু পরিবারের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

00

এদিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে বরগুনায় পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

বিকেলে শহরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, গণমিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনগুলো তাদের দাবি তুলে ধরে।

‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ নির্মাণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। 

সমাবেশে সংগঠনের নেতারা জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর এবং বিচারহীনতার অবসানের দাবি জানান।

একই সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে গণসমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং গণভোটের রায়ের আলোকে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার উদ্যোগে সদরঘাট মসজিদের সামনে গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

পৃথক কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তাই জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

12

ফেনী
শ্রদ্ধা ও নানা আয়োজনে ফেনীতে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শহরের ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

সকালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক। 

এর পরপর একে একে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন- পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক, সিভিল সার্জন, ফেনী সদর হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফেনী পিটিআইর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় উপস্থিত সবাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

13

গাইবান্ধা
গাইবান্ধা পৌরসভা চত্বরে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের নেতৃত্বে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীনসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

‎এছাড়াও জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দফতর, গাইবান্ধা পৌরসভা, জেলা পরিষদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পৃথকভাবে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

‎দিবসটি উপলক্ষে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়।

14

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ (ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৌড়) শীর্ষক ম্যারাথনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা শহর শাখা।

বিকাল ৫টায় শহরের ইটাগাছা এলাকায় অবস্থিত আল কুরআন একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে ম্যারাথন শুরু হয়। এটি শহরের নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খুলনা রোড মোড়ের শহীদ আসিফ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যারাথনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে জাতীয় পতাকা, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন উক্তি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন ছিল। অংশগ্রহণকারীরা পুরো পথজুড়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এবং শহর সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবীর সঞ্চালনায় সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, সাবেক সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি রুহুল আমিন, সাবেক শহর সভাপতি আবু তালেব এবং আনিসুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে মেহেদী হাসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। 

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ সমাজকে অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করেছে। একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি সৎ নাগরিক গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে শহর ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন- অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, মিডিয়া ও তথ্য সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, মানবসম্পদ ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হোসেন আফজাল, সমাজসেবা সম্পাদক এবাদুল ইসলাম, দাওয়াহ ও মাদ্রাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশনা সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. আকবর হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানুল বান্নাসহ অন্যরা।

এ ছাড়া সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও আগরদাঁড়ী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

15

ঝিনাইদহ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঝিনাইদহে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে গণসমাবেশ হয়েছে।

বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ হয়। 

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবুবকর।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আমির বাবুল হোসেন, শৈলকূপা উপজেলা আমির মতিউর রহমান, শহর আমির ইসমাইল হোসেন, গান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনোয়ার হোসেন, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব সামছিল আরেফিন কায়সার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা তুলে ধরে বিভিন্ন ইসলামি সংগীত পরিবেশন করা হয়।

বক্তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। 

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

03

মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী মিরসরাই উপজেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। 

বিকেলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের শুরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য নুরনবী।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. নুরুল কবিরের সভাপতিত্বে ও আনোয়ার উল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য আরও দেন- নিজাম উদ্দীন, শিহাব উদ্দিন, ইকরামুল হক, শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম টিটু, মিরসরাই থানা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাকিব হোসাইন প্রমুখ।

এসময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

16

রাবি
দিনব্যাপী নানা আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে।

সকাল থেকেই দিবসটি উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ফিতা কেটে জুলাই আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও ডকুমেন্টারির উদ্বোধন করেন উপাচার্য।

সকাল ১০টায় সিনেট ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আবাসিক শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা ও বিজয় র‍্যালি হয়। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয় ও অতিথিবৃন্দের উপস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রং তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়।

পরে বেলা ১১টায় সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মামুনুর রশীদ। 

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হয়। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রেরণা হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম দক্ষতা, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলুক। বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্যই দেশের অগ্রগতির প্রধান শক্তি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও লালন করবে এবং সেই আদর্শে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে কাজ করে যাবে।

আলোচনা সভায় উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের বারবার স্মরণ করতে হবে— জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন সংঘটিত হয়েছিল এবং কেন তা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। সেই অনিবার্যতার বিস্ফোরণ থেকেই যে অর্জন এসেছে, তা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। এটি শুধু তরুণদের নয়, বরং জুলাইয়ের প্রতিটি যোদ্ধা, আন্দোলনের প্রতিটি অংশগ্রহণকারী এবং দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যয়।

ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তার পুনরুত্থানের সুযোগ যেন আমরা সৃষ্টি না করি। আমাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেই ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। তাই জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান— আমরা এমন কোনো কাজ করব না, যা বিভাজন সৃষ্টি করে বা জুলাইয়ের চেতনাকে দুর্বল করে।

আমরা চাই, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ যেন কখনো বৃথা না যায়। আজ এখানে উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধাদের বক্তব্যে যে প্রত্যাশা ও উৎকণ্ঠা ফুটে উঠেছে, তা আমাদের সবার গভীরভাবে উপলব্ধি করা উচিত। ঐক্য, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়িত হবে।

বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

17

যবিপ্রবি
পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়ানো, কেক-কাটা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, আবাসিক হলগুলোতে গণভোজ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মাহফিলসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৯ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধান ফটকে থেকে বিজয় র‍্যালি আরম্ভ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। 

এরপরে যবিপ্রবির জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে শুরু হয় ‘জুলাই ২০২৪: গণআকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

যবিপ্রবির উপাচার্য ইয়ারুল কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ ফারুক হাসান। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। 

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আল আমিনের পরিবারকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

আলোচনা সভা শেষে যবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জোহর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও যারা অসুস্থ রয়েছে সেসকল বীরদের আশু সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। এছাড়াও এদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।

18

বাকৃবি
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, ১৯৫২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সব ন্যায্য গণআন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি বিজয় র‍্যালি বের করা হয়।

পরে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

19

ইবি
‘প্রতিটি চারা হোক আশার প্রতীক, সবুজে গড়ি সুন্দর বাংলাদেশ' - এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব স্লোগানকে সামনে রেখে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল। 

দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম আহ্বায়ক নুর উদ্দিন , আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. সাব্বির হোসাইন, আবু সাঈদ রনি, রাকিব হাসান স্বাক্ষর, তাপস অধিকারী, তানভীর সিদ্দিকী, মো. আল আমিন, রিফাত হোসাইন, আরিফুর ইসলাম জনি, মো. আসাদ তৌফিক, নয়ন হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, সানভীর অনিক ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

এই কর্মসূচির আওতায় নিমসহ বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল, কেন্দ্রীয় মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর, ঝালচত্বর, বটতলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকা জায়গায় এসব গাছ লাগানো হবে।

প্রতিনিধি/এলএ