Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধাদের ‘মারধর করলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা’

জেলা প্রতিনিধি

০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

শরীয়তপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। 

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া কয়েকজন জুলাইযোদ্ধার দাবি, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। 

ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। অনুষ্ঠানেও একই ধরনের মন্তব্য করলে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তাদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।

 বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত জুলাইযোদ্ধা, এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেন।

আরও পড়ুন

জাল দলিল নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করলে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টুকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। একই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকেও লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজনকে ধাক্কাধাক্কি করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে জাকির হোসেন মিন্টুকে চড়-থাপ্পড় মারার দৃশ্যও দেখা যায়, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

আহত জুলাইযোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু বলেন, আমি একজন গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা। আন্দোলনে আহত হওয়ার পর সরকার তদন্ত করে আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাকে মারধর করে বের করে দেন। অন্যরা এগিয়ে না এলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারত। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ করেছি। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে বলতে পারব। ঘটনাটি অনুষ্ঠান শুরুর আগে ঘটে থাকতে পারে। আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিনিধি/এলএ