জেলা প্রতিনিধি
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন ও রেকর্ড-সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে দেরি হয়। এমনকি অফিস চলাকালে খাবার খাওয়ার সময়ও টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু দৃশ্যে এমন চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসেন। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও অনেক সময় কাজ এগোয় না। দ্রুত সেবা পাওয়া বা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।
সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু দৃশ্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি দৃশ্যে তাকে খাবার খাওয়ার সময় টেবিলে বসে টাকা নিতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিনের। সরকারি ফির বাইরে টাকা না দিলে গুরুত্বপূর্ণ নথি পেতে বা কোনো কাজ শেষ করতে বিলম্ব করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজন থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দেন। ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। এতে অনিয়মের এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
সেবাপ্রার্থীরা বলেন, সরকারি সেবার নামে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হয়রানি বন্ধ করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা মুঠোফোনে বলেন, তিনি খাবার খাওয়ার সময় এক ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল তোলার জন্য তাঁর কাছে আসেন। ওই ব্যক্তি চারটি নকলের সরকারি ফি বাবদ ৪ হাজার টাকা দেন। তিনি অতিরিক্ত কোনো টাকা নেননি।
এ বিষয়ে তৎকালীন ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, কেউ সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকলে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
প্রতিনিধি/এআর