জেলা প্রতিনিধি
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে গভীর রাতে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের পাইপ (নাসি) বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে একটি এক্সকেভেটর ও ১৫টি নাসি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বেড়িবাঁধ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকেভেটর এবং ঘটনাস্থলে মজুদ রাখা দুই ফুট ব্যাসের ১৫টি নাসি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে একজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক্সকেভেটর দিয়ে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে একাধিক নাসি বসানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ ঘটনায় হারুন মাতবরপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম ও নুর, মুহাম্মদ, লালমিয়াপাড়ার মনু এবং শরৎঘোনার জহিরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান, গিয়াসউদ্দিন ও সেলিম রায়হান অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধে স্থাপিত নাসির মাধ্যমে লবণ মাঠ ও চিংড়িঘেরে পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এ সুবিধা ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের কাছ থেকে কানি হিসেবে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
তারা জানান, লবণ মৌসুমে প্রতি কানি লবণ মাঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং চিংড়িঘেরের প্রতি কানি জমি থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এভাবে প্রতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের দাবি, ওই স্থানে আগে থেকেই একটি নাসি ছিল। সেটি পুনঃস্থাপনের উদ্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই নাসি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি তাদের।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে নাসি স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজের আগে কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), মহাপরিকল্পনার অনুমোদন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। পূর্বানুমোদন ছাড়া বেড়িবাঁধে কাটাকাটি কিংবা কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইনসম্মত নয়।
স্থানীয়রা জানান, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলসংলগ্ন এই উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধটি মগনামার হাজারো মানুষের বসতি, বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ও চিংড়িঘেরকে জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ত পানির আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। ফলে বেড়িবাঁধ কেটে নাসি স্থাপনের যেকোনো উদ্যোগে শুধু বাঁধের অবকাঠামো নয়, পুরো এলাকার জনজীবন ও অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেন, বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ফিরে এলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস