জেলা প্রতিনিধি
০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রীর করা নৈতিক স্খলনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সহকারী শিক্ষক এম এ জাহেদ চৌধুরীকে অন্য একটি বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই বিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রী লিখিতভাবে সহকারী শিক্ষক এম এ জাহেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ করে। অভিযোগ তদন্তে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ ফাতিমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৬ জুলাই তদন্ত শেষে তিনি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ জুলাই প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদনটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মাস্টার আবুল কালাম ভুঁইয়া বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, এম এ জাহেদ চৌধুরী এর আগে উপজেলার জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম বশিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে সময় অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের পর্যায়ে যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে এম এ জাহেদ চৌধুরী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তদন্তের সময় তিনি তার বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ২ আগস্ট জারি করা এক আদেশে এম এ জাহেদ চৌধুরীকে আমজাদহাট ইউনিয়নের দেবীপুর ফেরদৌস আক্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। তবে বেতন-ভাতা তিনি আগের কর্মস্থল থেকেই গ্রহণ করবেন।
এদিকে, ২০১৮ সাল থেকে জামমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলায় এবং বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক প্রশিক্ষণে থাকায় বর্তমানে মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৬৫ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এসএস