জেলা প্রতিনিধি
০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় পারিবারিক কলহের জেরে অভিমানে নারী-পুরুষ ও এক বৃদ্ধসহ তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। তারা হলেন— নবীনগরের রুমা আক্তার (৩৫), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বজলু মিয়া (৬৫) এবং পৌরসভার শেরপুর এলাকার মানিক মিয়া (৫০)।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে দু’জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নারীর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। এ ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ছেলেদের সঙ্গে অভিমান করে রুমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারী চালের পোকা মারার কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রুমা আক্তার উপজেলার কাইতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাইতলা গ্রামের মাজিদুল হাসান আজাদের স্ত্রী। তিনি দুই ছেলেকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর গ্রামের হুজুর বাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ছেলেদের সঙ্গে অভিমান করে তিনি চালের পোকা মারার কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
অপরদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে বজলু মিয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ চালের পোকা মারার কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত বজলু মিয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের দামচাইল গ্রামের মৃত নিনা গাজীর ছেলে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে বিকেল ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার শেরপুর এলাকার মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া (৫০) পারিবারিক কলহের কারণে ইদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। মানিক মিয়া শহরের শেরপুর এলাকার মৃত সিদ্দিক মিয়ার ছেলে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইদুর মারার বিষ খেয়ে ফেলেন। পরে দুপুর ১টার দিকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক ঘটনায় তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। দু’জনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নারীর মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
প্রতিনিধি/এফএ