জেলা প্রতিনিধি
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় মসজিদের ইমামের বেতন নিয়ে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশে দুই ব্যক্তির মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (৩ আগস্ট) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম।
এর আগে, রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মোমিন খান (৫৫) বাদী হয়ে অভিযোগটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই রাত ৯টার দিকে সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারে একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন মোমিন খান। ওই সময় স্থানীয় মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হচ্ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলোচনার একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা মর্তুজ মিয়া বলেন, “হুজুরদের ভেতরে লোভ ঢুকছে।” এর জবাবে মোমিন খান বলেন, “মসজিদ-মাদরাসার ভেতরে শয়তান ঢুকছে।”
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই মন্তব্য চায়ের দোকানের মালিক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় অভিযুক্তরা মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে যান। তিনি বাড়িতে না থাকায় তার স্ত্রীকে পরদিন সালিশে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। উপস্থিত না হলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন ২৯ জুলাই সকালে মধুপুর গ্রামের আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম তামিরুল মিল্লাত মাদরাসা মাঠে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেও শাস্তি হিসেবে তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মোমিন খান।
একই ঘটনায় তার পাশে বসে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বী উজ্জ্বল সরকারকেও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, উজ্জ্বল কোনো মন্তব্য করেননি, শুধু তার পাশে বসে চা পান করছিলেন।
মোমিন খান আরও অভিযোগ করেন, সালিশ শেষে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বললে ‘কল্লা কেটে নেওয়া হবে’ বলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সালিশকারী ও মাদরাসার শিক্ষক আলী আহমেদ মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, মসজিদ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে স্থানীয় যুবকদের আবেদনের ভিত্তিতে সালিশ বসেছিল। সেখানে উপস্থিত লোকজনের মতামতের ভিত্তিতেই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিনিধি/এসএস