জেলা প্রতিনিধি
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির প্রভাব পড়েছে বরিশালের সবজির বাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে প্রায় দ্বিগুণ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল প্রায় ১০০ টাকার মধ্যে।
দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় শাক-সবজি এখন অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে ফিরছেন অনেক ক্রেতা।
তাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অজুহাতে একটি অসাধু চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তারা বাজারে কঠোর মনিটরিং ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার নগরীর বহুমুখী পাইকারি সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারেই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন ১৫০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, করোলা ও কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, মানকচু ৫০ টাকা, গাঁটি কচু ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, চিচিঙ্গা ২০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম পাইকারির তুলনায় কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারে কাঁচামরিচের দাম পৌঁছেছে ৪০০ টাকায়।
সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম শুভ বলেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারেই সবজির দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যে কাঁচামরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটিই ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।’
নগরীর পুরান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা সোহাগ বলেন, ‘পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত মুনাফা করছি না।’
নগরীর কলেজ অ্যাভিনিউ এলাকার বাসিন্দা আলামিন বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো পণ্যের দাম এতটা বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। নিয়মিত বাজার মনিটরিং হলে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেত।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বিভাগের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পরে উজানের ঢলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে।’
বরিশাল বিভাগীয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী বলেন, ‘বৃষ্টিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম রয়েছে। তারপরও বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। কোথাও অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো বা কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এমআই