জেলা প্রতিনিধি
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ২৭ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. এ. কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর।
কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে কয়েকটি কর্মদিবস পেরিয়ে গেলেও সোমবার পর্যন্ত তদন্তকাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক এম. এ. কাদের বলেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে থাকায় তদন্তকাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। তার ছুটি শেষ হয়েছে। এখন তদন্ত শুরু হবে। সহোদর কোটাসহ ভর্তি–সংক্রান্ত সব বিষয় তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে সহোদর কোটায় দুই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের একজন বাবা–মায়ের একমাত্র সন্তান। অন্য শিক্ষার্থীর কোনো ভাই বা বোন ওই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেই। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সহোদর অধ্যয়নের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দেন। পরে ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে অভিভাবকেরা উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত তাদের সহোদর কোটায় ভর্তির নির্দেশ দেন।

প্রধান শিক্ষকের দেওয়া ওই প্রত্যয়নপত্র নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নেয়।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কৌশলে আরও ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে, গত মার্চে বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) তদন্ত করে। ময়মনসিংহ বিভাগের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রতিনিধি/এসএস