Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

একমাত্র ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, ত্রিপল টাঙিয়ে চলছে পাঠদান

০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে পাঠদান চলছে। রোদ-বৃষ্টি ও কক্ষসংকটের মধ্যে মাঠে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়ছে দুর্ভোগ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। চার কক্ষবিশিষ্ট বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৪ সালে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক পাঁচজন এবং কর্মচারী তিনজন।

শিক্ষকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায়ই ছাদের চুন-সুরকি খসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ত। সর্বশেষ গত ২৩ জুন ক্লাস চলাকালে একটি শ্রেণিকক্ষের বিমের নিচের অংশের পলেস্তারা ও কংক্রিট ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। দেয়ালের অংশ ভেঙে রড বেরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর কিছুটা দূরে বিদ্যালয় মাঠে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ত্রিপল টানিয়ে পাঠদান চলছে। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পরিচালনা করছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

চতর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম জানায়, প্রায় সময়ই স্কুলের ভেতরের দেয়ালের অংশ ভেঙে পড়ে। কিছুদিন আগে ক্লাস চলাকালে পলেস্তারা ও কংক্রিট ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপর থেকে ভয়ে কেউ ভবনের ভেতরে যেতে চায় না। তাই কষ্ট হলেও বাইরে ক্লাস করতে হচ্ছে।

আরেক শিক্ষার্থী রবিন জানায়, ভবনের ভেতর ঝুঁকি থাকায় শিক্ষকরা ত্রিপল টানিয়ে বাইরে ক্লাস নেন। এতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। প্রচণ্ড রোদে গা-মাথা ঘেমে যায়, আবার বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়। আমরা চাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক।

অভিভাবক খলিলুর রহমান বলেন, ‘কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছেলে-মেয়েদের ত্রিপলের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে তারা যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে শিশুরা স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ‘ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিছুদিন আগে ক্লাস চলাকালে একটি কক্ষের বিমের নিচের অংশ ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এরপর কয়েক দিন বারান্দা ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিদ্যালয় মাঠে ত্রিপল টানিয়ে পাঠদান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত টিনের কয়েকটি কক্ষ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উন্নয়ন শাখায় আবেদন পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আপাতত টিন দিয়ে অস্থায়ী কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এমআই