Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মৃত্যুর আগে কেন সেজেছিলেন ফারজানা? 

জেলা প্রতিনিধি

০২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০২ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকা থেকে ফারজানা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ দেখতে পায় ফারজানা সেজেগুজে ছিলেন। 

রোববার ভোর ৩টার দিকে পৌর এলাকার  মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফারজানা আক্তার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের দত্তখলা গ্রামের সোলামুড়া এলাকার খলিল মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শহরের মেড্ডা পোদ্দার বাড়ির ৯৩০ নম্বর হাবিবুর রহমানের ভবনের ভাড়াটিয়া সেন্টু মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন ফারজানা। রাতের কোনো এক সময় বাসার ডাইনিংরুমে ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সকালে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে দেখতে পায়, মৃত্যুর আগে ফারজানা সেজেগুজে ছিলেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা খলিল মিয়া জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার নিকট আত্মীয় সেন্টু মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ শুরু করেন তার মেয়ে। মাঝেমধ্যে তিনি বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার মেয়েকে দেখতে এসে ৫০ টাকা দিয়ে যান। পরে রোববার সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কী কারণে তার মেয়ে মারা গেছে সে বিষয়ে বাসার লোকজন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার দাবি, মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো ঘটনা সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এলএ