জেলা প্রতিনিধি
০২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার নতুন ভবনের উদ্বোধন হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও জনবল সংকট, লিফট স্থাপনে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতায় ভবনটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ফলে জেলার কয়েক লাখ মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে নয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় একাধিকবার মেয়াদ বাড়ে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।
তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ভবনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি। একই সঙ্গে লিফট স্থাপনের কাজ শেষ না হওয়ায় ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ হলেও স্বাস্থ্যসেবার মানে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি। রোগীর চাপ বাড়লেও শয্যা, চিকিৎসক ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক রোগীকেই বরিশালসহ বিভাগীয় শহর বা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি—সবই বাড়ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, কার্যাদেশ অনুযায়ী তাদের নির্মাণকাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। একাধিকবার ভবন হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। ফলে ভবনের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা পৌর শহরের বাসিন্দা কলি আক্তার বলেন, নতুন ভবন হলেও আগের মতোই ভিড় ও জায়গার সংকট রয়েছে। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এখনো বাইরে যেতে হয়। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পুরোপুরি চালু হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
রোগীর স্বজন মো. সোহেল হোসেন বলেন, এত বড় ভবন তৈরি হওয়ার পরও মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন।
নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। এখন প্রয়োজন চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা।
ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেন বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত না হলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে না। দ্রুত লিফট স্থাপন, জনবল নিয়োগ এবং ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা জরুরি।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, নতুন ভবনের তিনটি তলায় জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম চালুর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বিদ্যমান জনবল দিয়েই দ্রুত এসব সেবা চালুর প্রস্তুতি চলছে।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার বলেন, লিফট স্থাপনের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা যায়নি। আগামী নভেম্বরের মধ্যে লিফট স্থাপনসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে। এর আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে অংশ ব্যবহার করতে চাইবে, তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস