Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ট্রিপল সেঞ্চুরি পার করেছে কাঁচামরিচ, বেড়েছে পেঁয়াজ-সবজির দাম

জেলা প্রতিনিধি

০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ এএম

টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম এমন কারণ দেখিয়ে খুলনায় বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। ইতোমধ্যে কাঁচা মরিচের দাম ট্রিপল সেঞ্চুরি পার করেছে সপ্তাহ খানেক আগে। স্থির নেই পেঁয়াজের বাজারও। ত্রিশ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন হাফ সেঞ্চুরি পার করেছে। এদিকে সব ধরনের সবজির দামও বাড়ানো হয়েছে এই সুযোগে।

বিক্রেতারা বলছেন, টানা অতিবৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাঁচাবাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, এটি ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম কারসাজি।

শনিবার (১ আগস্ট) নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায়। তবে বাজার ভেদে কোথাও আরও বেশি। ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

d10eac87-cfa2-4154-8c99-ba5dd97a8b5e

কেসিসি সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী সাজিদুল ইসলাম বলেন, নগরীর অন্যান্য বাজার থেকে সন্ধ্যা বাজারে সব ধরনের জিনিসের দাম একটু বেশি। এক পোয়া কাঁচা মরিচ ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এক কেজি বা আধা কেজি বিক্রি হয় কম। এজন্য ৫-১০ টাকা বেশি রাখি।

এদিকে, সব ধরনের সবজির দাম লাগামছাড়া। বেগুন একশত টাকা ছাড়িয়েছে বেশ আগে। মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৩০ টাকায়। করলা, টামেটো, পটল, ঢেড়সসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিও বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকার মধ্যে।

বড় বাজারের ব্যবসায় আব্দুর রহিম বলেন, অতিবৃষ্টিতে মরিচ গাছ পঁচে যায়। গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিপাত হওয়ায় মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে।

স্কুলশিক্ষক পরিতোষ মন্ডল বলেন, অতি মুনাফার আশায় বৃষ্টির অযুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের। মানুষের আয়তো বাড়েনি। সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে। এজন্য বাজার মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন।

469f04b0-b202-4460-ac3a-70fb5895b3e3

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোডে কথা হয় অটোচালক মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, সারা দিন অটো চালিয়ে ১০০০-১২০০ টাকা আয় করা খুব কঠিন। বিদ্যুতের দাম বাড়ায় অটোর ভাড়াও বেড়েছে। ৫ জনের সংসারে এই দামে বাজার করে চলা খুব কষ্টের।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম বেড়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। অস্বাভাবিক কোনো কিছু নজরে আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি