Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ঘর থেকে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, গ্রেফতার ৩

জেলা প্রতিনিধি

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

ফরিদপুরে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। ভুক্তভোগী বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতাররা হলো- হেলাল মৃধা, রইস শিকদার ও রনি বেপারী।

ভুক্তভোগীর চাচা আবু তালেব মিয়া জানান, ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি ও কিশোরীর মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরী তার ছোট ভাই ও ছোট বোনকে নিয়ে অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে কিশোরীকে মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে দুইজনকে একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে তাদের সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক দুজন হলেন- হেলাল মৃধা (২০) ও রইস শিকদার (১৬)।

ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী আ. খায়ের শেখ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় জুয়া, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাদের সতর্ক করা হলেও তারা বিরত হয়নি। সেই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

আরেক প্রতিবেশী মো. জাবেদ বলেন, অভিযুক্তরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও ওই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে মনির খান, মিঠুন সরদার, ইমন বেপারীসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে।

ভুক্তভোগীর মা লাকি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ের এই অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। আমার মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

এ ঘটনার বিষয়ে ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম কাওছার বলেন, এ ঘটনায় জড়িতরা নিয়মিত মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক দুজনকে শনিবার সকালে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং দুপুরে রনি বেপারী নামে আরো এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

প্রতিনিধি/এলএ