জেলা প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এ বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের চিকিৎসকেরা প্রতিদিন আহত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের অনেক আহত জুলাই যোদ্ধা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শরীরে গুলির স্প্লিন্টার, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা কিংবা অঙ্গহানির কারণে তাঁরা নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকির প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন আসা রোগীদের শারীরিক অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন, তাঁদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী আহতদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে সরকার। এর মধ্যে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি গুরুতর এ ক্যাটাগরিতে আছেন ৬ জন। গুরুতর বি ক্যাটাগরিতে আছেন ৩৩ জন। কম গুরুতর সি ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৫০৫ জন।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সার্জারি, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন।
বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নির্দেশনা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণ এবং জটিল চোখের রোগীদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক/এআর